রাবিতে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের আলোচনা সভা

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং সাম্প্রতিক জুলাইয়ের ভাবনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের উদ্যোগে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

সভায় বক্তারা জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ, স্বৈরাচারের পতন এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বক্তব্য দেন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম গত ১৭ মাসে জাতীয়তাবাদী আদর্শের শিক্ষকদের বঞ্চিত হওয়ার কথাও তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তারা ২৪-এর জুলাইয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক সমাজের ঐক্যবদ্ধ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, জুলাইয়ে ঘটে যাওয়া নির্মম ঘটনা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শহীদ ও আহতদের ত্যাগ-মহিমা, দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের বিদায় এবং স্বৈরাচারী সরকারের পতনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আলম মাসউদ বলেন, ‘আমাদের সবার চোখের সামনে ঘটে যাওয়া একটি অভূতপূর্ব বিপ্লব হলো জুলাই বিপ্লব। আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে এই দিনেও আমরা অনেকেই রাজপথে ছিলাম। ৩ আগস্ট সেই বৃষ্টিতে ভিজে যখন আমরা রেলগেট পর্যন্ত গেলাম, তখন দেখলাম একসঙ্গে হাজার হাজার মানুষ। কোলের শিশু নিয়ে মা পর্যন্ত সেখানে ছিলেন। এটি এমন এক জুলাই, যেখানে দলমত-নির্বিশেষে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। এই জাতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তারা মাথা নত করতে জানে না।’

কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাবীবুর রহমান বলেন, ‘বিগত সময়ে আমরা নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। জুলাই আন্দোলনের সময় ৩ আগস্ট আমরা যখন বক্তৃতা করছিলাম, তখন সেই অনুষ্ঠানের ছবি দেখে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার জন্য ফোন করা হয়েছিল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে জুলাই আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করেছে। জুলাই আন্দোলন একদিনে সফল হয়নি। এ আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং যারা আহত হয়েছেন, তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই নিয়ে আমার এমন কিছু স্মৃতি আছে, যা আমি কাউকে বলিনি। আমার মনে হয়, এখন তা বলা উচিত। খুন, গুম ও হত্যার সংস্কৃতির কারণেই এই জুলাই সংঘটিত হয়েছিল। জুলাই-পরবর্তী সময়ে এসে এখন একটি গোষ্ঠী আবারও এমন একটি ন্যারেটিভ দাঁড় করাতে চাচ্ছে, যা কখনোই কাম্য নয়। ১৯৭১-কে কুক্ষিগত করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ যেমন শেষ হয়ে গেছে, জুলাইকে কুক্ষিগত করতে চাওয়া গোষ্ঠীরও একদিন একই পরিণতি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৭ মাসে জাতীয়তাবাদী আদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষকদের কোনো কমিটি বা প্রশাসনিক দায়িত্বে রাখা হয়নি। বরং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমাদের সঙ্গে রাস্তার কুকুরের মতো আচরণ করা হয়েছে।’

জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমীরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফজলুল হক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. এস এম কামরুজ্জামান, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রাবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত