বিশ্বকাপের পর ক্লাব ফুটবলে প্রথমবার শুরুর একাদশে নেমেই নিজের চিরচেনা রূপে ঝড় তুলে ইতিহাস গড়লেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। তার অনন্য কীর্তির রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর ক্লাবগুলোর যৌথ লড়াইয়ের টুর্নামেন্ট ‘লিগস কাপে’ দারুণ এক জয় দিয়ে মিশন শুরু করেছে ইন্টার মায়ামি। আতলেতিকো সান লুইসকে ৪-২ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের আধিপত্যের বার্তা দিল মেসির দলটি।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না মায়ামির জন্য। খেলার মাত্র চতুর্থ মিনিটে ডেভিড রদ্রিগেজের গোলে এগিয়ে গিয়ে মায়ামিকে চমকে দেয় মেক্সিকান ক্লাবটি। তবে সমতায় ফিরতে বেশি সময় নেয়নি মায়ামি। একাদশ মিনিটে নোহ অ্যালেনের ক্রসে দারুণ এক ভলিতে স্কোরলাইন ১-১ করেন মেসি। গোল করার পর দারুণ উল্লাসে ফেটে পড়েন ৩৯ বছর বয়সি এই তারকা।
এরপরই মায়ামির আক্রমণভাগে শুরু হয় মেসি ম্যাজিক। ২৫তম মিনিটে তেলাস্কো সেগোভিয়া গোল করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, বিরতির ঠিক আগে ৪৪তম মিনিটে আবারও জাদুকরি নৈপুণ্য দেখান মেসি। নোহ অ্যালেনের বাড়ানো বল ধরে বক্সে সামান্য এগিয়ে দারুণ শটে ব্যবধান ৩-১ করেন তিনি।
আর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে মেসির করা কর্নার কিক থেকেই দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান ৪-১ করেন ডিফেন্ডার মিকায়েল দো সান্টোস সিলভা।
দ্বিতীয় আর্ধের শুরুতে সান লুইসের রাফা লোরেন্তে একটি গোল শোধ করলেও খেলার ফল বদলাতে পারেনি। ৬৮তম মিনিটে স্টেডিয়ামের আশেপাশে বজ্রপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ম্যাচ কিছুক্ষণ স্থগিত রাখতে হয়। পরে খেলা শুরু হলেও স্কোরলাইনে আর কোনো পরিবর্তন আসেনি।
এই ম্যাচে জোড়া গোল করে অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন লিওনেল মেসি। টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৪ গোল করে তিনি এখন লিগস কাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতা, পেছনে ফেলেছেন ১৩ গোল করা লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির ডেনিস বুয়াঙ্গাকে।
সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন মেসি। ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে আর্জেন্টিনা রানার্সআপ হলেও, টুর্নামেন্টে ৮ গোলসহ বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বমোট ২১ গোল নিয়ে নিজের অবস্থান আরও সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। বিশ্বকাপ শেষে বিরতির পর গত ১ আগস্ট কলম্বাস ক্রুর বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে মায়ামির হয়ে ক্লাব ফুটবলে ফেরেন তিনি, আর এই ম্যাচেই প্রথম একাদশে নেমে উপহার দিলেন চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স।
আগামী ৮ আগস্ট মন্টেরেইয়ের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচ খেলতে নামবে মায়ামি।
