যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় প্রতিদিন গড়ে একজন শিশু নিহত: ইউনিসেফ

শিশুরা এখনও তীব্র অপুষ্টি, রোগব্যাধি, নিরাপদ পানির সংকট এবং ভেঙে পড়া স্যানিটেশন ব্যবস্থার মুখোমুখি। ইনকিউবেটরের অভাবে অনেক অপরিণত নবজাতককে একই যন্ত্র ভাগাভাগি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫২ পিএম

গাজায় তথাকথিত 'যুদ্ধবিরতি' ঘোষণার পরও প্রতিদিন গড়ে একজন করে শিশু নিহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর গত প্রায় ৩০০ দিনে অন্তত ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে। এ সময় আরও শত শত শিশু আহত হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থাই গুরুতর। ইউনিসেফের বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের ফার্স নিউজ। 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার পক্ষগুলোকে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।   

ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক এদুয়ার বেইগবেদার বলেন, 'যে যুদ্ধবিরতিতে প্রতিদিন গড়ে একজন শিশু মারা যায়, সেটি শিশুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ।' তিনি বলেন, 'গাজার শিশুরা এখনও সেই সহিংসতার অবসানের অপেক্ষায় রয়েছে, যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছিল।' 

সংস্থাটি জানায়, গাজার বাসিন্দারা এখন ভূখণ্ডের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপ, ভাঙা ভবন ও অপসারণ না করা বর্জ্যের মধ্যেই তাদের দিন কাটছে।

ইউনিসেফের মতে, শিশুরা এখনও তীব্র অপুষ্টি, রোগব্যাধি, নিরাপদ পানির সংকট এবং ভেঙে পড়া স্যানিটেশন ব্যবস্থার মুখোমুখি। ইনকিউবেটরের অভাবে অনেক অপরিণত নবজাতককে একই যন্ত্র ভাগাভাগি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭৩ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ইউনিসেফ বলছে, এ সময়ে ৫৮ হাজারের বেশি শিশু তাদের একজন বা উভয় অভিভাবককে হারিয়েছে। এছাড়া ১০ লাখের বেশি শিশুর সুরক্ষা ও মানসিক সহায়তা প্রয়োজন। এর আগে সংস্থাটি জানিয়েছিল, প্রায় ১৭ হাজার শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন বা অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম বড় শিশু সুরক্ষা সংকট।

সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, টানা তৃতীয় গ্রীষ্মেও যুদ্ধ চলায় গাজার অনেক শিশু খেলাধুলার বদলে পানি সংগ্রহ, খাবারের লাইনে দাঁড়ানো ও জ্বালানি কাঠ সংগ্রহে সময় কাটাচ্ছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরগুলোতে গ্রীষ্মকালীন শিক্ষা কার্যক্রম, খেলনা, আঁকার উপকরণ এমনকি কাগজ-কলমেরও তীব্র সংকট রয়েছে।

ইউনিসেফের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ছোট শিশুরা নিরাপদ ও বিকাশ-সহায়ক পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের শিক্ষা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হওয়ায় বিশেষ সহায়তা ছাড়া তাদের স্বাভাবিক শিক্ষায় ফেরা কঠিন হবে।

এদুয়ার বেইগবেদার বলেন, গাজার শিশুদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে কি না, পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছাবে কি না, হাসপাতালগুলো আবার চালু হবে কি না এবং নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত হবে কি না।

এদিকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে ইউনিসেফ এই সপ্তাহে গাজায় ৬০০টিরও বেশি প্যালেট শিক্ষা উপকরণ ও সাবান পৌঁছে দিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত