শেখ হাসিনার বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘কিসের হাসিনা, কোথায় বক্তব্য দিয়েছে? চেহারা দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে উস্কানি দিতে এগুলো তারা চেষ্টা করছে, যাতে বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায়।’

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

ভারতে অবস্থানরত, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে সরকার কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্ট করেন, ‘গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের রাজনীতি বাংলাদেশের জনগণ আর কখনো গ্রহণ করবে না।’

শুক্রবার সকালে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার অডিও বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কিসের হাসিনা, কোথায় বক্তব্য দিয়েছে? চেহারা দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে উস্কানি দিতে এগুলো তারা চেষ্টা করছে, যাতে বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এগুলো কখনো গ্রহণ করবে না।’

তিনি আরও যোগ করেন, যাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও কোনো অনুশোচনা নেই এবং যারা জনগণের কাছে ক্ষমা চায়নি, তাদের বিদেশে বসে চিৎকার বা উস্কানিতে সরকার আর মনোযোগ দিচ্ছে না।

কক্সবাজার ঘিরে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান

এর আগে সকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) কার্যালয় পরিদর্শন, কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং আবাসন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তিনি কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরে জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কক্সবাজারের জন্য একটি ‘সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান’ প্রস্তুত সম্পন্ন হবে। এটি অনুমোদিত হলে পর্যটন খাতের প্রশাসনিক ও নীতিগত বাধাগুলো দূর হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘অতীতে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও জরিপ ছাড়াই মেরিন ড্রাইভের দুই পাশের বিস্তীর্ণ এলাকাকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়েছিল। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যটন অঞ্চলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ব্যাহত হয়। সরকার এখন সঠিক তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটন বিকাশের মধ্যে ভারসাম্য এনে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে চায়।’

‘আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে সৈকতে কাঠের ওয়াকওয়ে, পিয়ার ও হেলিপ্যাডসহ আধুনিক অবকাঠামো গড়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে,’ বলেন তিনি।

‘মেডিকেলে ছাত্রীর সংখ্যা বেশি, আনন্দের বিষয়’

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই এই প্রকল্পের অনুমোদন ও দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। স্থানীয় প্রতিনিধি ও শিক্ষকদের অনুরোধে তিনি উদ্যোগ নিয়ে এটি দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করেছিলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সময় মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে ছাত্রের চেয়ে ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ, যা অত্যন্ত আনন্দের। নতুন আবাসন ব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট দূর হবে। নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী সলিমুল্লাহ খানের সান্নিধ্যে থাকার কথা উল্লেখ করে তাঁকে দেশের অন্যতম মেধাবী ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করেন।’

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ‘হাসপাতালটি যেন পূর্ণাঙ্গ বহুশয্যার হাসপাতালে উন্নীত হয় এবং মাস্টারপ্ল্যানে থাকা একাডেমিক ভবনসহ বাকি অবকাঠামোর কাজ বর্তমান সরকারের মেয়াতেই শেষ করা যায়, সে চেষ্টা চালানো হবে। প্রয়োজন হলে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত