তথ্য গোপন করে মামলা তালিকাভুক্ত করে জামিনের চেষ্টার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীকে জরিমানা করেছে হাইকোর্ট।
আজ রবিবার বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ আইনজীবী মোহাম্মদ আজিজুর রহমানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতান মাহমুদ বান্না।
তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আজ হাইকোর্টের এই বেঞ্চে একটি ফৌজদারি মামলায় আসামি সাকিব হাসান লিটনের জামিনের আবেদন শুনানির জন্য কার্যতালিকার ১৫ নম্বর ক্রমিকে ছিল। তবে, আমাদের সন্দেহ হলে অনলাইনে সার্চ দেওয়ার পর জানতে পারি যে, একই আবেদনটি গত ৩ আগষ্ট হাইকোর্টের অন্য একটি ফৌজদারি বেঞ্চের কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
নিয়ম হলো যে, কোনো মামলার আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিলে এবং অন্য কোনো বেঞ্চে নতুন করে তুলতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের এ সংক্রান্ত নোটিশ পরিবর্তণ করতে হয়। এক্ষেত্রে আসামিপক্ষের আইনজীবী সেটি করেননি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, জামিনের এই আবেদন গত ২৬ জুলাই জমা হয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। আমাদের প্রশ্ন হলো, ২৬ জুলাই আবেদনটি জমা দেওয়ার পর ৩ আগষ্ট হাইকোর্টের অন্য বেঞ্চে কিভাবে আবেদনটি করা হলো। তার মানে এখানে তথ্য গোপন করে জামিনের চেষ্টা করা হয়েছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতান মাহমুদ বান্না বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর আইনজীবী আজিজুর রহমানের কাছে ব্যাখ্যা চা হাইকোর্ট। তবে, এ আইনজীবী কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। ফলে হাইকোর্ট তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ও মামলাটি সরাসরি খারিজের আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
অ্যাটর্নি-জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘আদালতের প্রতি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন করা একজন আইনজীবীর মৌলিক পেশাগত দায়িত্ব। একই বিষয়ে একাধিক বেঞ্চে শুনানির সুযোগ তৈরি করা কিংবা পূর্ববর্তী কার্যক্রম গোপন করে আদালতের আদেশ প্রভাবিত করার চেষ্টা শুধু পেশাগত নৈতিকতার পরিপন্থী নয়, এটি বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি আস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।’
