‘এটা প্লেস্টেশন নয়, ফুটবল’: ভিএআর নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উয়েফার

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম

ফুটবল মাঠে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির অতিরিক্ত ও সূক্ষ্ম ব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে অসন্তোষ বেড়েই চলেছে। প্রযুক্তিকে ফুটবলের মূল আকর্ষণ থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দেখে এবার কঠোর বার্তা দিয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা উয়েফা।

উয়েফার রেফারি প্রধান রোসেত্তি গণমাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ফুটবল কোনো ‘প্লেস্টেশন গেম’ নয়; তাই অতি সূক্ষ্ম বা মাইক্রোস্কোপিক বিষয় নিয়ে কাটাছেঁড়া করে ম্যাচের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করা চলবে না।

ইংল্যান্ড, স্পেন, জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালির শীর্ষ লিগের রেফারি প্রধানদের সঙ্গে সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই অবস্থান স্পষ্ট করে উয়েফা। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতাসমূহে ভিএআরের কার্যপদ্ধতি আরও স্বচ্ছ ও সহজ করতে ‘ক্লিয়ার লাইন’ নামের একটি নতুন পোর্টালও চালু করেছে সংস্থাটি। এই পোর্টালের মাধ্যমে ভক্ত-সমর্থক ও ক্লাবগুলো সহজে বুঝতে পারবে কখন ভিএআর হস্তক্ষেপ করবে আর কখন করবে না।

ভিএআর নিয়ে নিজেদের অসন্তোষের কথা স্বীকার করে রোসেত্তি বলেন, ‘আমরা বুঝতে পেরেছি যে মাঠে ভিএআরের ভূমিকা নিয়ে এখন সর্বত্রই এক ধরনের অসন্তোষ রয়েছে। আমরা চাই না সূক্ষ্ম কোনো বিষয় নিয়ে খুব বেশি কাটাছেঁড়া হোক। এর প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা প্লেস্টেশন নয়, ফুটবল। আমাদের খুব সাবধানে এগোতে হবে।’

ম্যাচে রেফারিদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘মাঠের ম্যাচটি রেফারিকেই পরিচালনা করতে হবে। ফুটবল এবং স্পষ্ট ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত জরুরি।’

বিভিন্ন দেশের লিগে হ্যান্ডবল ও ভিএআর পর্যালোচনার নিয়মে ভিন্নতা থাকার কারণে ইউরোপজুড়ে একটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড তৈরি করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, সব জায়গাতেই হ্যান্ডবল পেনাল্টির হারে বড় ফারাক রয়েছে। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর মধ্যে গত মৌসুমে হ্যান্ডবল আইনের সবচেয়ে শিথিল বা নমনীয় ছিল ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগে। পরিসংখ্যান বলছে, সেখানে প্রতি ১৭.২৭ ম্যাচে মাত্র একটি করে হ্যান্ডবল পেনাল্টি দেওয়া হয়েছিল।

তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চিত্র এর বিপরীতে, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হ্যান্ডবলের ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত কড়াকড়ি দেখা গেছে, যেখানে প্রতি ৭ ম্যাচে একটি করে পেনাল্টি দিয়ে ইউরোপে সর্বোচ্চ পেনাল্টির হার রেকর্ড করা হয়েছিল। এসব ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য আনার জন্যই কাজ করছে উয়েফা।

অতিরিক্ত সময় ধরে ভিডিও রিপ্লে দেখার সমালোচনা করে রোসেত্তি জানান, ৯০ সেকেন্ডের বেশি সময় ধরে কোনো পর্যালোচনা চললে তা ভক্তদের কাছে ভিএআরের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়ে দেয়। মনিটরে দেখার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম অনুযায়ী রেফারিদের প্রথমে সংযোগের জন্য স্থিরচিত্র, এরপর আধা গতিতে এবং শেষে চ্যালেঞ্জের তীব্রতা বুঝতে পূর্ণ গতিতে রিপ্লে দেখানোর নিয়ম করা হয়েছে।

রোসেত্তি বলেন, ‘আমরা এমন রেফারিদের পছন্দ করি যাদের ব্যক্তিত্ব আছে এবং যারা মাঠে নিজে থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ভিএআর কেবল স্পষ্ট এবং অবিতর্কিত পরিস্থিতির জন্যই হস্তক্ষেপ করবে। আমরা মাঠের রেফারিদের আবার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনতে চাই।’



×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত