খাসি-কাণ্ডে ভেঙে যায় বিয়ে... অতঃপর যা হলো?

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৪ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে খদরে খাসি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে বিয়ে না করেই জাপানপ্রবাসী বর চলে যাওয়ার ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। এবার বিয়েতে খদরে খাসি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বরের ছোট ভাই পারভেজ। 

একই সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে বিয়ের আগে উভয় পক্ষের সম্মতিতে করা একটি ফর্দনামা, যেখানে ২ লাখ টাকা নগদ কাবিনে বিয়ের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ রয়েছে।

বরের ভাই পারভেজ বলেন, বর্তমানে বিয়ে-শাদিতে সামাজিকতার অংশ হিসেবে খদরে খাসি দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। বিষয়টি মেয়ে পক্ষকে আগেই জানানো হয়েছিল। 

প্রায় ছয় মাস আগে উভয় পক্ষের মধ্যে বিয়ের বিষয়ে কথাবার্তা হয়। পরে প্রায় এক মাস আগে তাঁদের বাড়িতে এসে বিয়ের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত করা হয়। তখন সিদ্ধান্ত হয়, ছেলে জাপান থেকে দেশে আসার পর ছেলে-মেয়ে পরস্পরকে দেখে সম্মতি দিলে বিয়ে হবে।

তিনি বলেন, গত ১৩ আগস্ট জুনায়েদ জাপান থেকে দেশে আসেন। পরদিন ১৪ আগস্ট ফর্দ হওয়ার সময় ছেলে ও মেয়ে উভয়েই বিয়েতে সম্মতি দেন।

পারভেজের দাবি, বিয়ের দুই দিন আগেও জুনায়েদ তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে খদরে খাসি দেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যেহেতু উভয় পক্ষ বিয়ের ভিডিও করবে এবং সেসব ভিডিও পরে প্রবাসী বন্ধুদের দেখানো হবে, তাই খদর যেন খাসি দিয়ে করা হয়। তাঁর দাবি, বর্তমানে দেশে বিয়ের খদরে খাসি দেওয়ার প্রচলন রয়েছে।

এ ছাড়া কাবিনের টাকা নগদ দেওয়ার বিষয়টিও আগে থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে নিশ্চিত ছিল বলে দাবি করেন পারভেজ।

এদিকে এ ঘটনায় ১৪ আগস্ট করা একটি ফর্দনামা সামনে এসেছে। এতে দুই পক্ষের সম্মতিতে ২ লাখ টাকা নগদ কাবিনে বিয়ে করার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ রয়েছে। ফর্দনামায় বরের পক্ষের অভিভাবক হিসেবে তাঁর চাচাতো ভাই মনির হোসেন স্বাক্ষর করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ফর্দনামায় বিয়ের কাবিনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের সম্মতির কথা উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে লিখিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কনেপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরছেন।

জুনায়েদ তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, বিয়ের আসরে খাওয়া-দাওয়া শেষে কনেপক্ষ পূর্বনির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে অতিরিক্ত ১০ গুণ কাবিন দাবি করে। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং তাঁদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে কনের জন্য আনা মালামালও ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া কনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় রাতে কনেপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলেও জানান জুনায়েদ। তাঁর দাবি, বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে বলেও ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে কনেপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ১৪ আগস্ট উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে লিখিত ফর্দনামায় ২ লাখ টাকা নগদ কাবিনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং বরের পক্ষের প্রতিনিধি মনির হোসেন তাতে স্বাক্ষরও করেন।

এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে বিয়ে না করেই ফিরে যান জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ। তিনি কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা উপলক্ষে জুনায়েদ কনের বাড়িতে পৌঁছালে ফুল দিয়ে তাঁকে বরণ করা হয়। এ সময় ফুল নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে। পরে গেট ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

একপর্যায়ে আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়া-দাওয়া শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বরপক্ষের জন্য খদরের খাবার দেওয়া হয়। তখন খদরে খাসি না থাকায় জুনায়েদ আপত্তি জানান। তিনি খাসি ছাড়া খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান।

এ সময় কনেপক্ষের আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত অনেকেই তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই কনের বাড়ি থেকে চলে যান তিনি।

কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, ‘আমাকে আগে জানানো হলে খদরে খাসির ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। কোনো বাবা-মাই চান না মেয়ের বিয়েতে এমন ঘটনা ঘটুক। খাসির বিষয়টি আসার পর তাঁকে অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত