মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ব্যবহারকারীদের ‘ধান্ধাবাজ বা মূর্খ’ বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাত পৌনে ৮টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আসিফ নজরুল লেখেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ মানে যদি মনে করেন, শেখ পরিবার আর আওয়ামী লীগের স্বেচ্ছাচারিতার স্বাধীনতা, তাহলে আপনি মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই-দুটোরই বিরোধী। আবার আপনি যদি মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করার জন্য জুলাইকে ব্যবহার করেন, তাহলে আপনি ধান্ধাবাজ বা মূর্খ ছাড়া অন্য কিছু নন।’
পোস্টে তিনি ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বরের একটি ঘটনা উল্লেখ করেন। হুমায়ূন আহমেদের একটি লেখার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি লেখেন, সেদিন ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে একজন কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। মেয়েটি বিহারি ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এরপর ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার স্টেডিয়ামে কয়েকজন কথিত রাজাকারকে প্রকাশ্যে হত্যা করার ঘটনাও উল্লেখ করেন আসিফ নজরুল। ইতালীয় সাংবাদিক ওরিয়ানা ফালাচি ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।
আসিফ নজরুল বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালেও আওয়ামী লীগের অনেক ব্যক্তি ও কিছু মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়ধারী মানুষের বিরুদ্ধে ‘নারকীয় ও পাশবিক’ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। তবে ব্যক্তিবিশেষের অপকর্মের কারণে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়েও একই যুক্তি তুলে ধরেন আসিফ নজরুল। তিনি লেখেন, ৮ আগস্ট একজন ‘পতিত প্রধানমন্ত্রীর’ অন্তর্বাস প্রদর্শন করা অনুচিত ও গর্হিত কাজ। জুলাইয়ের নামে পরবর্তী সময়ে অনেক জঘন্য কাজ হলেও এর দায় পুরো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর চাপানো ঠিক নয়।
তিনি লেখেন, ‘কথায় কথায় জুলাইকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটা মরিয়া প্রচেষ্টা এখন দেখি। মুক্তিযুদ্ধ আর জুলাইকে মুখোমুখি করারও একটা হীন চেষ্টা থাকে কারও কারও মধ্যে। এসব খুবই অন্যায়।’
আসিফ নজরুলের ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের মানুষের ‘শ্রেষ্ঠতম অর্জন’ এবং স্বাধীন বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ‘সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল বীরগাথা’। এ দুটির মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।
তিনি আরও লেখেন, ‘জুলাই বরং মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত প্রত্যাশা পূরণের অসামান্য আত্মত্যাগী লড়াই। মুক্তিযুদ্ধ আসলে কী, সেটা বুঝলে জুলাইয়ের বিরোধিতা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’
