ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ভেজাল ও নিম্নমানের সয়াবিন তেল বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে দণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাদের কাছ থেকে জব্দ করা ৬৬০ বোতল সয়াবিন তেল ধ্বংস করা হয়েছে। ধ্বংস করা তেলের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৫ হাজার টাকা। দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় কোম্পানির ডেলিভারিম্যান মো. হানিফ মিয়া ও গাড়িচালক জুনাইদ আলীকে প্রত্যেককে সাতদিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড দেওয়া হয়। অভিযানে ঈশ্বরগঞ্জ থানার পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- ডেলিভারিম্যান মো. হানিফ মিয়া (৬০) ও গাড়িচালক জুনাইদ আলী (৪০)। হানিফ মিয়ার বাড়ি ময়মনসিংহ নগরের মহজমপুর এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত শাহাবুদ্দিন হাওলাদার। জুনাইদ আলীর বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরনিলখিয়া উজানপাড়া এলাকায়। তার বাবার নাম সোরহাব আলী।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২৭টি কার্টনে করে ৪৫০ গ্রাম ওজনের মোট ৬৬০টি সয়াবিন তেলের বোতল রাখা হয়েছিল। এসব তেল ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল, গৌরীপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছিল। অভিযানের সময় তেলগুলো জব্দ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রাথমিক যাচাইয়ের পর ধ্বংস করা হয়।
জব্দ করা বোতলগুলোর গায়ে ‘BOSS Number-1 Fortified Soyabean Oil’ লেখা ছিল। বোতলের লেবেলে প্রস্তুতকারক হিসেবে Arikh Consumer Products Ltd., স্বদেশ টাওয়ার, ১ম তলা, নোটারি, গাজীপুর, বাংলাদেশ-এমন তথ্য দেখা যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে দন্ডপ্রাপ্তদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সদর উপজেলার মেইলঘাট এবং চায়না মোড় এলাকার নাজমা খাতুন নামে এক নারী কোম্পানিটির ডিলার বলে জানা গেছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রের ভাষ্য, এই সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে ঈশ্বরগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় তেলগুলো বাজারজাত করা হচ্ছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জব্দ করা তেল জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, ভেজাল বা অননুমোদিত খাদ্যপণ্য বাজারজাত করে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করার সুযোগ নেই। এ ধরনের পণ্য যাতে বাজারে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুইজনকে সাতদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন পণ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।