ডারউইনের সেই দাপট কোনো অংশেই ধরে রাখতে পারল না বাংলাদেশ। সেই স্মৃতি ভুলে ম্যাকাইতে কি-না দ্বিতীয় দিনেই পরাজয়ের শঙ্কা গুনতে হচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও চলমান ব্যাটিংয়ের চরম বিপর্যয়। এতে এখন সময়টা কেবল ইনিংস হার এড়ানোর লড়াইয়ের!
ম্যাকাইতে দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশন শেষে ৮ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৯৫ রান। এতে ইনিংস হার এড়াতে এখনো ৫১ রান করতে হবে মুশফিক-তাসকিনদের। ২২ গজে স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে এই মুহূর্তে টিকে আছে কেবল মুশফিকুর রহিম। ৮০ বল খেলে অপরাজিত আছেন ২৯ রান। আর তাসকিন ব্যাট করছেন ৮ রানে।
ডারউইনে যখন চার দিনে ১১ সেশনের সবকটিতেই রাজত্ব করেছিল বাংলাদেশ, সেখানে এখন পর্যন্ত ম্যাকাইয়ের পাঁচ সেশনেই হারল শান্ত-হাসানরা। প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়ের নাজেহাল চিত্র ফিরিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেও মিচেল স্টার্কের পেস তোপে ভুগল সফরকারী দলের ব্যাটাররা। এই বাঁহাতি পেসারের পরপর দুই বলে ফেরেন সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল ইসলাম। স্কোরবোর্ডে তখন ২উইকেটে স্রেফ ৫ রান!
কিছুটা থিতু হবার আশা দেখাচ্ছিলেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান। আগের ইনিংসে ফিরেছিলেন খালি হাতেই। তবে পিচে কিছুটা সময় লড়াই চালালেও ফিরলেন ব্যক্তিগত সংগ্রহ এক অঙ্কের ঘরে রেখেই (৯)। সেখানে থেকে মুশফিককে নিয়ে চাপ সামলে ওঠার বার্তা দিলেও বেশিক্ষণ টিকলেন না শান্তও (৩১)। দলীয় খাতা পঞ্চাশ পার হতেই ফেরেন স্টার্কের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে। আর ব্যাট হাতে সবচেয়ে বাজে পারফর্ম দেখালেন লিটন দাস। ০, ০ এবং ০। এক লাইনে এটিই ছিল অস্ট্রেলিয়ায় লিটনের অবদান। তিন ইনিংসেই ফিরেছেন রানের খাতা না খুলেই।
এদিকে মুশফিক কিছুটা লড়াই চালালেও অপরপ্রান্তে জারি আছে উইকেটের মিছিল। অজিদের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসেও ফাইফারের অপেক্ষায় আছে স্টার্ক। আগের ইনিংসে ৬ উইকেটের পর এই ইনিংসেও ইতিমধ্যেই নিয়েছেন ৪ উইকেট।
ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে লড়লেন কেবল শরীফুল ইসলাম। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়ার বাকি উইকেটগুলো তুলে নেওয়ার পথে তুলে নেন ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার। আগের দিন ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা অজিদের চেপে ধরে দিনের শুরুতেই সেট ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিনকে (৬৭) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪৮ রান খরচায় ৭ উইকেট শিকার করেন এই পেসার। এর মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শাহাদাত হোসেনের ২৭ রানে ৬ উইকেট শিকারের রেকর্ড টপকে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশি পেসার হিসেবে ইনিংসে সেরা বোলিংয়ের নতুন ইতিহাস গড়েন শরীফুল।