বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে যাত্রা শুরু ইনভেস্ট বাংলাদেশের

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’। ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর আওতায় গেজেট প্রকাশের পর প্রথম কর্মদিবসেই আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) কার্যক্রম শুরু করেছে নতুন এই সংস্থা।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষকে (পিপিপিএ) একীভূত করে সরকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন নতুন এই সংস্থা এখন দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে আজ নতুন ব্র্যান্ড পরিচয় প্রকাশ করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

নতুন এই পরিচয়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে একটি জাতীয় বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বিনিয়োগ সহায়তা, নীতি সমন্বয়, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের সক্ষমতাকে একটি প্রতিষ্ঠানের আওতায় আনা হয়েছে।

এর ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সারা দেশের বিনিয়োগের সুযোগ ও প্রয়োজনীয় সেবার জন্য এক জায়গা থেকে সহায়তা পাবেন। বিনিয়োগসেবা, সুবিধা ও নীতির বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সহজ ও সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি একক যোগাযোগকেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা ছিল।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, এটি শুধু তিন প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণ নয়। বিনিয়োগকারীকে কেন্দ্রে রেখে সরকারের কাজ আরও কার্যকরভাবে সাজানোই এর লক্ষ্য। আমাদের সক্ষমতাগুলো এক করে আমরা বিনিয়োগের পুরো পথে দায়িত্ব ও জবাবদিহি আরও স্পষ্ট করতে এবং আরও সমন্বিত সহায়তা দিতে চাই। পূর্বসূরি প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্জন ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আমরা আরও বড় ও শক্তিশালী দল হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করব।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে একটি সমন্বিত জাতীয় বিনিয়োগ ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। আইনে অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ঘোষিত অন্যান্য শিল্পাঞ্চলকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে লাইসেন্স, অনুমোদন ও সরকারি সেবা দেওয়ার পদ্ধতি এবং সময়সীমা নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের অনুমোদন কাঠামো আরও স্পষ্ট করা এবং ছোট পিপিপি প্রকল্পের অনুমোদন সহজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অব্যবহৃত সরকারি জমি, স্থাপনা, শেয়ার ও স্বত্ব উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সুযোগও রাখা হয়েছে। বিনিয়োগ ও ব্যবসাসংক্রান্ত সব সেবা একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার ব্যবস্থাও রয়েছে আইনে।

অনুমোদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া, বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত স্থান খুঁজে পাওয়া এবং ব্যবসার প্রবৃদ্ধির বাধা মোকাবিলায় বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। সংস্থাটি ‘বাংলাবিজ’ পরিচালনা অব্যাহত রাখবে। এটি বাংলাদেশের বিনিয়োগসেবার একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে ব্যবসার লাইসেন্স ও অনুমতিপত্র অনলাইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

নতুন কর্তৃপক্ষ ১৪ দিনের ব্যবসায়িক লাইসেন্সিং কাঠামো কার্যকর করতে কাজ করছে। দ্রুত ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তোলার সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্চে ঘোষিত ১৮০ দিনের অঙ্গীকারের সময়সীমাও এখন শেষের দিকে। এ সময়ের মধ্যে ঘোষিত অঙ্গীকারগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

বিনিয়োগকারীরা যেভাবে উপকৃত হবেন

ইনভেস্ট বাংলাদেশের আওতায় বিনিয়োগকারীরা অনুমোদন, নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি সেবা, প্রণোদনা, শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা আরও সহজে, দ্রুত ও সমন্বিতভাবে পাবেন। আইন অনুযায়ী লাইসেন্স, অনুমোদন ও সরকারি সেবা দেওয়ার পদ্ধতি এবং সময়সীমাও নির্ধারণ করা যাবে।

আইনে নতুন সুযোগ

আইনটি অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ঘোষিত অন্যান্য শিল্পাঞ্চলকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার সুযোগ দিয়েছে। অব্যবহৃত সরকারি জমি, স্থাপনা, শেয়ার ও স্বত্ব উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি পিপিপি প্রকল্পের অনুমোদন কাঠামো আরও স্পষ্ট এবং ছোট প্রকল্পের অনুমোদন সহজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিদ্যমান বিনিয়োগসেবার কী হবে

বিডা, বেজা ও পিপিপিএর মাধ্যমে দেওয়া বিদ্যমান বিনিয়োগসেবা ইনভেস্ট বাংলাদেশের অধীনে আগের মতোই চলবে। একীভূতকরণটি মূলত প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে হয়েছে। এর লক্ষ্য বিনিয়োগকারীদের পথ সহজ করা, এক জায়গা থেকে সেবা দেওয়া এবং পুরো বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও সমন্বিত সহায়তা নিশ্চিত করা।

বিনিয়োগসেবা ডিজিটাল করা হবে যেভাবে

আইনের আওতায় বিনিয়োগ ও ব্যবসাসংক্রান্ত সেবাগুলো একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে একক জানালা ছাড়পত্র, একক সেবা এবং ব্যবসার লাইসেন্স ও অনুমোদনের অনলাইন প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নেওয়া যাবে।

অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে প্রকল্পেও সহায়তা

অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো অগ্রাধিকার পাবে। কারণ এসব এলাকায় বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও পরিবহন নেটওয়ার্কে সংযোগ তুলনামূলক দ্রুত ও কার্যকরভাবে দেওয়া যায়। তবে প্রকল্পের ধরন ও বিনিয়োগকারীর চাহিদা অনুযায়ী অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরের প্রকল্পেও সহায়তা করবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে অব্যবহৃত সরকারি সম্পদ ব্যবহারের সুযোগও থাকবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত

বিডা, বেজা ও পিপিপিএর নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমমানের পদে ইনভেস্ট বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত হবেন। তাদের চাকরির ধারাবাহিকতা ও বর্তমান সুযোগ-সুবিধা বহাল থাকবে। পরামর্শক, আউটসোর্সিং কর্মী ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীরা তাদের বর্তমান চুক্তি বা আদেশের শর্ত অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত