বিলাসবহুল গাড়ি খণ্ড খণ্ড করে আমদানির মাধ্যমে বিপুল করফাঁকির চেষ্টা

মংলা সমুদ্র বন্দরে পণ্য খালাসের চেষ্টাকালে আটককৃত চালানটিতে রেঞ্জ রোভার, বিএমডব্লিউ, লেক্সাস ও টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট মডেলের চারটি বিলাসবহুল গাড়ির পুর্ণ যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৪ পিএম

ব্যবহৃত গাড়ির খুচরা যন্ত্রাংশ ঘোষনা দিয়ে ৪টি বিলাসবহুল গাড়ি খণ্ড খণ্ড করে আমদানির মাধ্যমে বিপুল পরিমান শুল্ক ও করফাঁকির অভিনব কৌশল উদঘাটন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। আটককৃত পণ্যের বাজারমুল্য সাড়ে চার থেকে সাড়ে সাত কোটি টাকা বলে ধারনা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।   

এনবিআর জানায়, মংলা সমুদ্র বন্দরে পণ্য খালাসের চেষ্টাকালে আটককৃত চালানটিতে রেঞ্জ রোভার, বিএমডব্লিউ, লেক্সাস ও টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট মডেলের চারটি বিলাসবহুল গাড়ির পুর্ণ যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়। মংলা কাস্টমস পরিচালিত ওই অভিযানে ইউজড্ কার পার্টস হিসেবে ঘোষণা দেওয়া ওই চালানে ৩-৪ খন্ডে পণ্যগুলো সেমি নকড্ ডাউন (এসিকেডি) আকারে সনাক্ত হয়।

বড় খন্ডে প্যাকেজিং করা ওই পণ্যের মধ্যে রয়েছে রেঞ্জরোভার ভগ, বিএমডব্লিউ ৬৫০আই, লেক্সাস এলএক্স ৫৭০ ও টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট। এসকেডি অবস্থায় আমদানি করা ওই পণ্য চালানটির  শতভাগ কায়িক পরীক্ষা, বিআরটিএ ও কুয়েটের বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে চারটি বিলাসবহুল গাড়ির যন্ত্রাংশের অ্যাসেনশিয়াল ক্যারাকটার শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

চালানটির বিস্তারিত (বি/ই সি-৬৯০৪ তারিখ ২০-০৪-২০২৬ এবং মেনিফেস্ট নাম্বার ২০২৬/ ২৫৬। উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট ফাইলের নামে ৬৯০৬ থাকলেও মূল নথিতে B/E নম্বর C-6904।

আমদানিকারক ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস, ৩/১ দিননাথ সেন রোড, গেন্ডারিয়া, সুত্রাপুর পিএস, ঢাকা ১২০৪। প্রতিষ্ঠানটির বিআইএন ০০০৪৬০৪৪৯-০৩০১। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসটি ইন্টারন্যাশনাল, সোনাডাঙ্গা, খুলনা।

রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মাহি কার পোর্ট, আশিকাগা-শি, টচিগি-কেন, জাপান। পণ্যবাহী জাহাজ এমভি এমসিসি টোকিও, ক্যারিয়ার ওশান ট্রেড লিমিটেড। ডেলিভারি টার্ম সিএফআর।

এনবিআর জানায়, চালানটিতে মোট ১৪টি আইটেমে ১৬৪ প্যাকেজ, যার ঘোষিত মোট ওজন প্রায় ১০,২২০ কেজি। বিআরটিএ ও কুয়েটের বিশেষজ্ঞ টিমের কারিগরি সহায়তা, পণ্যের বিভিন্ন স্থানে লাগানো বা খোদাই করা স্টিকার, লেবেল, চিহ্ন ও নম্বর বিশ্লেষণ এবং এআই এর সহায়তায় গাড়িগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। সাধারণ খুচরা যন্ত্রাংশ হিসেবে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করার পরিবর্তে আস্ত গাড়িগুলোকে মাত্র ৩–৪টি বড় অংশে কেটে আমদানি করা হয়েছে বলে পরীক্ষায় প্রতীয়মান হয়। এসব অংশ পুনরায় সংযোজন করলে গাড়িগুলোর মূল কাঠামো ও বৈশিষ্ট্য পুনর্গঠনের সুযোগ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

ঘোষণায় শুল্ক-কর দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। মোটরযান হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করে সংশ্লিষ্ট মূল্য, ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি, বয়স, অবচয়, প্রযোজ্য ট্যারিফ ও মিনিমাম ভ্যালু এবং সিডি, এসডি, আরডি, ভ্যাট, এটি ও এআইটি নির্ধারণের পরই প্রকৃত সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির পরিমাণ চূড়ান্তভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত