বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিতে যখন উত্তপ্ত ইউরোপীয় ফুটবল অঙ্গন, ঠিক তখনই তার সমর্থনে প্রকাশ্যে আস্থার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন দক্ষিণ আমেরিকার কিংবদন্তি ফুটবলাররা।
বিশ্বকাপের স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার পর থেকেই ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করে আসছে উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফসহ বিভিন্ন ফেডারেশন। এমনকি ফরাসি বিশ্বকাপজয়ী এমানুয়েল পেতিত, রবের পিরেজ, বিক্সেন্তে লিজারাজু এবং আইভরি কোটের মহাতারকা দিদিয়ের দ্রগবার মতো ইউরোপ ও আফ্রিকার কিংবদন্তিরা সরাসরি একে 'প্রয়োজনীয় পরিবর্তন' আখ্যা দিয়ে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তবে এই চাপের মুখে ফিফা প্রধানের পাশে দাঁড়িয়েছেন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কাফু, রবের্তো কার্লোস এবং হাভিয়ের জানেত্তির মতো আইকনিক তারকারা।
ইনফান্তিনোর সমর্থনে সম্প্রতি কাফু, কার্লোসের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার জানেত্তি, এস্তেবান কাম্বিয়াসসো ও হাভিয়ের পাস্তোর প্রায় হুবহু এক ভাষায় যৌথ বা এককভাবে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। ওই বিবৃতিতে ফিফা সভাপতির ভূয়সী প্রশংসা করে তারা উল্লেখ করেন, ‘গত দশ বছর ধরে আমরা ফিফা এবং সভাপতি ইনফান্তিনোর এমন কিছু অর্জনের কাজ দেখেছি, যার মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলে ফুটবলারদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়েছে, যা আগে কখনো ছিল না।’
ফুটবলারদের মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার বিষয়টি তুলে ধরে তারা আরও বলেন, ‘কমিটি, প্রজেক্ট এবং ওয়ার্কিং গ্রুপে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের খেলোয়াড়দের একটি কণ্ঠস্বর এবং খেলাধুলায় একটি নির্দিষ্ট স্থান দেওয়া হয়েছে। আমাদের মতামত শোনা হয় এবং আমাদের চিন্তা, ধারণা, পরিকল্পনা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ফুটবলকে উপকৃত করে এমন বহু উদ্যোগ আকার পায়।’
বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে ফুটবলের এই ঐতিহাসিক বিবর্তনের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারা বলেন, ‘যেসব দেশে ফুটবল খেলা হয়, সেখানকার মানুষের কাছে খেলাটি পৌঁছে দিতে এবং তাদের উপকৃত করার জন্য গত এক দশকে আমাদের খেলা যে বড় ধরনের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে, তা সমর্থন করতে আমরা সবসময় প্রস্তুত আছি।’
অন্যদিকে, ইউরোপীয় কিংবদন্তিরা ইনফান্তিনোর তীব্র সমালোচনা করে বলেছিলেন যে, ক্ষমতার মোহে বর্তমান নেতৃত্ব নিজেদের স্বার্থ আর ফুটবলের প্রকৃত কল্যাণের মধ্যকার পার্থক্য বুঝতে পারছে না। ফরাসি ও আইভরিয়ান তারকারা পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর আর নীরব থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যথেষ্ঠ হয়েছে, আর নয়।’
একদিকে ইউরোপীয় গ্রেটদের পদত্যাগের দাবি এবং অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকান কিংবদন্তিদের এই জোরালো সমর্থন ফিফার ক্ষমতার রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে, যা বিশ্ব ফুটবলের অন্দরে বেশ বড় রকমের আলোড়ন তুলেছে।
আর্জেন্টিনার ‘বাজপাখি’কে দলে ভেড়ানোর সুযোগ চেলসির