ভারতীয় ক্রিকেটের দুই মহাতারকা শচীন টেন্ডুলকার ও বিরাট কোহলিকে নিয়ে দেওয়া এক মন্তব্যের জেরে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ব্যাটার এবি ডি ভিলিয়ার্স। কিছুদিন আগে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক বক্তব্যে ডি ভিলিয়ার্স মন্তব্য করেছিলেন যে, পেস-সহায়ক ও বাউন্সি উইন্ডোতে বিদেশের মাটিতে রান করার দিক থেকে শচীনের চেয়ে কোহলি কিছুটা এগিয়ে এবং তিনি কোহলিকে এগিয়ে রাখছেন।
এই মন্তব্যের পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তদের তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনার শিকার হন প্রোটিয়াদের এই সাবেক তারকা ব্যাটার। শচীনকে ট্রেইলব্রেকার বা অগ্রদূত হিসেবে মেনে নিলেও কোহলিকে তার চেয়েও উঁচুতে স্থান দেওয়ায় ক্রিকেট বিশ্বে বেশ বড় ধরনের বিতর্কের ঝড় ওঠে।
তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে নিজের ইউটিউব চ্যানেলেই পরবর্তীতে একটি পরিষ্কার বক্তব্য বা সাফাই নিয়ে হাজির হন এবি ডি ভিলিয়ার্স। নিজের আগের বক্তব্যের ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে গিয়ে ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘আমার বিরাট ও শচীন মন্তব্য নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। মনে রাখবেন, এটি আমার ব্যক্তিগত মতামত। আমি কাউকে ছেঁটে ফেলছি না। আমি কেবল যেভাবে দেখছি, সেটাই বলছি।’
শচীনকে নিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘শচীনই প্রথম ভারতের হয়ে ব্যাপারটিকে এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং সব তরুণদের দেখিয়েছিলেন কীভাবে বিশ্বের সব জায়গায় ধারাবাহিক পারফর্ম করতে হয়।’
কোহলির পারফরম্যান্স এবং পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়ে নিজের মতামত স্পষ্ট করতে গিয়ে ডি ভিলিয়ার্স ইউটিউব চ্যানেলে আরও বলেন, ‘আমি বলেছিলাম যে বিরাট শর্ট বল মোকাবিলায় পারদর্শী হয়ে ভারতীয় ব্যাটিংয়ে একটি ভিন্ন গতিশীলতা দেখিয়েছে। সে এটি কাউন্টার করার উপায় খুঁজে বের করেছিল।’
বিদেশের মাটিতে পরিসংখ্যানে কোহলি কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়ে তার খেলার ভঙ্গি ও ফিটনেসকে এগিয়ে রেখেছেন ডি ভিলিয়ার্স। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় পরিসংখ্যান দেখতে পারি এবং বলতে পারি যে বিদেশের মাটিতে বিরাটের পরিসংখ্যান ততটা ভালো নয়, বিশেষ করে ইংল্যান্ডে যেখানে সে সত্যিই সংগ্রাম করেছে। কিন্তু আমার এখনও মনে হয় সে আত্মবিশ্বাসী ছিল এবং সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভারসাম্যপূর্ণ ক্রিকেট খেলেছে।’
সবশেষে কোহলি শচীনের পথ ধরেই নতুন প্রজন্মকে পথ দেখিয়েছেন উল্লেখ করে ডি ভিলিয়ার্স যোগ করেন, ‘সে শচীনের কাছ থেকে যা শিখেছে তা এগিয়ে নিয়ে গেছে। বিদেশের মাটিতে তার রেকর্ড শচীনের মতো অতটা ভালো নয়, তবে আমরা সবসময় পরিসংখ্যান দেখি না, বিশেষ করে আমি তো নই। আর নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের পথ দেখানো বলতে আমি ঠিক এই ব্যাপারটিই বুঝিয়েছি; ফিট থাকা, উদাহরণ তৈরি করা এবং অল-রাউন্ড গেম থাকা।’
বাংলাদেশের সাফল্যে মুগ্ধ ওয়াহ, তবে শঙ্কিত টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে