কর্মীকে হলে সিট না দেওয়ায় প্রভোস্টের সঙ্গে চবি ছাত্রদল সেক্রেটারির বাকবিতন্ডা, বিতর্ক 

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৮ পিএম

আবাসিক হলে নিজ গ্রুপের কর্মীকে সিট না দেওয়ায় প্রভোস্টকে হুমকির অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সেক্রেটারির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এই সংক্রান্ত একটি ফোনকলের অডিও রেকর্ড ভাইরাল হয়েছে। এতে ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। 

সোমবার (৩১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চবির সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মান্নান এবং ছাত্রদল সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল নোমানের একটি কথোপকথন ছড়িয়ে পড়ে। 

জানা আছে, ছাত্রদলের এক কর্মীকে হলে আসন বরাদ্দ দেওয়ার জন্য চবির সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্টের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ছাত্রদল সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল নোমান। এই ছাত্রদল কর্মীর নাম রাশিদুল ইসলাম, তিনি ক্যাম্পাসে সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল নোমানের অনুসারী বলে পরিচিত। সম্প্রতি তিনি স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন। চবি সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল নোমান হলের প্রভোস্টকে রাশিদুল ইসলামের নামে আসন বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বরাবর অনুরোধ করতে থাকেন। এনিয়ে তিনি হলের প্রভোস্টকে চাপাচাপি করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রভোস্টের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করেন। তাদের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। 

অডিও রেকর্ডের কথোপকথন:

হল প্রভোস্ট: ওকে (রাশিদুল ইসলাম) এমফিলের ছেলে কেন বলতেছ? সে কি এমফিলে ভর্তি হইছে? সে এমফিলে ভর্তি হবে, পরিকল্পনা আছে। ভর্তি হোক, তখন দেখা যাবে।

ছাত্রদল সেক্রেটারি: না স্যার, আপনি কি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটির চেয়ারম্যান? আপনার হলে মেধার ভিত্তিতে সিট কয়টা? মেধার ভিত্তিতে সিট কয়টা দিছেন? শিবিরকে কীভাবে এস্টাবলিশ করছেন? আপনি এটার উত্তর দিবেন। ছাত্র হিসেবে আমাদের জানার অধিকার আছে।

হল প্রভোস্ট: আচ্ছা শোনো, তুমি যেহেতু আমাকে বলছ...

ছাত্রদল সেক্রেটারি: মেধার ভিত্তিতে কয়টা সিট আপনার হলে আছে? মেধার ভিত্তিতে কয়টা দিছেন? আর সুপার মেধার ভিত্তিতে কয়টা দিছেন আপনার হলে? আপনি এটার উত্তর কি দিবেন?

হল প্রভোস্ট: শোনো, তুমি তো আমার কথাই শুনতেছ না, খালি তোমার কথাই বলতেছ।

ছাত্রদল সেক্রেটারি: আপনি উত্তর করছেন? আপনি যেভাবে এস্টাবলিশ করছেন, শিবির কীভাবে কীভাবে ঢুকিয়েছেন, তুলেছেন, আপনি এটার তালিকা প্রকাশ করবেন। তালিকা দিবেন আপনি। আমি এখান থেকে সেখানে যাব, তালিকা দিবেন। স্যার, আপনার হলে কয়টি মেধার ভিত্তিতে সিট আছে, আর কয়টি সুপার মেধার ভিত্তিতে সিট আছে, এই তালিকা আপনাকে দিতে হবে।

হল প্রভোস্ট: শোনো, তোমার ছেলে রাশিদুল আমাকে আইসা সিট চাইছে। আমি রাশিদুলকে যেটা বলছি, বলছি। কিন্তু তুমি যখন তার ব্যাপারে সুপারিশ করবা, তখন তোমার সাথে আমার কথাবার্তার ধরন হবে অন্যরকম। কিন্তু তুমি আমার সাথে যে ধরনের কথা বলতেছ, এটা কি হইলো? তুমি হইলে নেতা মানুষ, বড় নেতা। বড় নেতার কথা হবে নরম-সরম।

ছাত্রদল সেক্রেটারি: না না, আমি আপনাকে বলি... আমি তো এই ধরনের কোনো অঘটন... সিটের জন্য কি আমি আপনাকে উত্তর করছি? সুপারিশ করছি?

হল প্রভোস্ট: কিন্তু আজকে যে তুমি প্রথম দিনে ফোন কইরা যে এইভাবে কথা বলতেছ, এটা হইলো? তুমি আমাকে বলতে পারতা যে, 'স্যার, আপনি আমার এই ছেলেটার একটু ব্যবস্থা করেন'—এইভাবে বলতে পারতা। কিন্তু তুমি যেভাবে কথা বলতেছ, মানে কোনো কথা বাদ রাখতেছ না।

ছাত্রদল সেক্রেটারি: শিবির কীভাবে হলে গেছে? 

হল প্রভোস্ট: এত এত মন্তব্য করলে কথা বলব কোন সময়?

ছাত্রদল সেক্রেটারি: অবশ্যই স্যার। তালিকাসহ হিসাব হবে যে কে কয়টা সিট নিয়েছে? ছাত্ররা কেন নেতার পেছনে সিটের জন্য ঘুরবে? এই যে ইসলাম ব্যবহার করে, ইসলামকে পছন্দ করে মেধার ভিত্তিতে সিটের জন্য। এ অধিকার কীভাবে পেলেন যে সিটে তুলতেছেন, অংক আছে? খোলাবাজারে সিট তুলছেন! ধর্মের দোহাই নিয়েন না। আপনারা কোর্স অন্যায়ভাবে বিক্রি করছেন, আপনি খারাপ ব্যবহার করতে পারেন না। আপনি সুন্দরভাবে বলেন। শিবির কীভাবে এই  হলে উঠে প্রকাশ করছেন?

হল প্রভোস্ট: শোনো। ওর সাথে আমি খারাপ ব্যবহার করি নাই। ও যখন বারবার আমাকে বলতেছে, ও যখন আমার কথা কোনো বিবেচনায় নিচ্ছে না, তখন হয়তো।

ছাত্রদল সেক্রেটারি: সেটাই তো বললাম। স্যার, আমি আপনাকে বললাম, আপনাকে শ্রদ্ধা করে বললাম। আপনি আপনার হলের মেধার ভিত্তিতে সিট কয়টা হইছে, ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হয়ে ফার্স্ট ইয়ারে কীভাবে সিট নেয়। আপনারা সুপার মেধার ভিত্তিতে সিট দিছেন, এটার তালিকা প্রকাশ করবেন। এটার তালিকা দিবেন। আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন আইন, কোন বিধান, কোন ধারা দিয়ে বাছাই করছেন, সেটা দেখব। আপনারা দুই নম্বরি কইরা দখল করতেছেন, সিট দখল করতেছেন।

জানতে চাইলে সোহরাওয়ার্দী হলের প্রোভোস্ট অধ্যাপক ড. মো.আব্দুল মান্নান বলেন, “ঘটনাটি গতকালের। ওই শিক্ষার্থী এমফিলে ভর্তি হওয়ার কথা বলেছে, কিন্তু এখনো তার ভর্তি সম্পন্ন হয়নি। এমফিলে ভর্তি হতে প্রায় এক বছর সময় লেগে যায়। তাই সিট সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে আমি তাকে কিছু দিইনি।

তিনি আরও বলেন, “অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। হয়তো সিটপ্রত্যাশী ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি নিয়ে তাকে কিছু বলেছে, আর তাতেই তার মাথা গরম হয়ে গেছে। সে যা বলেছে, তা সুন্দর কিছু নয়। তবে সে কী বলেছে, সেটা নিয়ে আমি আর কথা বলতে চাই না। তারা শিক্ষার্থী, আমি শিক্ষক। এ নিয়ে আমি আর কথা বাড়াতে চাই না।”


এ বিষয়য়ে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “আমার সঙ্গে তার প্রায় চার মিনিট কথা হয়েছে। সেখানে দুই মিনিটের রেকর্ডিং দেওয়া হয়েছে। বাকি দুই মিনিটের রেকর্ডিংও দিতে বলেছি। একজন শিক্ষার্থীকে সিট সংক্রান্ত বিষয় তিনি বুঝিয়ে বলতে পারেন। কিন্তু তার মা-বাবাকে তুলে কথা বলতে পারেন না। ওই শিক্ষার্থী মাস্টার্সের ছিল এবং মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছিল। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যও সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু তিনি  বলেছেন, তিনি নাকি ভিসিকেও গোনেন না।"

তিনি আরও বলেন, "আমি জানতে চেয়েছি, আপনার হলের মোট সিট সংখ্যা কত এবং মেধার ভিত্তিতে কতটি সিট দেওয়া হয় এই প্রশ্ন করাটা কি আসলেই হুমকি? আর ওই শিক্ষার্থী এমফিলে ভর্তি হয়েছে কি না, সে বিষয়েও ডকুমেন্ট রয়েছে।”

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত