দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও বিনিয়োগবান্ধব করতে হলে জ্ঞানভিত্তিক ইকোনমির কোন বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। তিনি বলেন-সরকার আগামী ২০ বছরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টির লক্ষ্যে এডিবির কারিগরি সহায়তায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের যে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করছে তাতে প্রাইভেট সেক্টরের ভূমিকা অর্ধেক। তাই ব্যবসায়ীদের চাহিদা ও পরামর্শ অনুযায়ী যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে দেশের আমূল পরিবর্তন সাধিত হবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম চেম্বার ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এর যৌথ উদ্যোগে ‘স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন মিটিং অন দ্যা ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট (আইজিএনডি)’ শীর্ষক অংশীজন পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় চেম্বার সভাপতি বলেন-ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেইনে উপনীত করা এবং ভূ-কৌশলগত ঝুঁকি মাথায় রেখে চট্টগ্রাম-নোয়াখালী-চাঁদপুর-নারায়গঞ্জ-ঢাকা বিকল্প সড়ক তৈরি করা জরুরী। কারণ যেকোন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা অপরিহার্য।
তিনি মাল্টিমোডাল সিস্টেমে চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা, সোনাদিয়া-মহেশখালী-চট্টগ্রাম বন্দর এবং মিরসরাই ইকোনমিক জোনকে অর্থনৈতিক করিডরে রূপান্তরের মাধ্যমে শিল্পায়ন গড়ে তোলা, চট্টগ্রাম বিমান বন্দরকে দুবাইয়ের শারজাহ বিমান বন্দরের আদলে কার্গো হাবে পরিণত করা, ঢাকা বিমান বন্দরের চেয়ে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরের ট্যারিফ কমিয়ে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরকে আরও গতিশীল করা এবং বড় বড় প্রকল্পে বাংলাদেশী ফ্লাগশিপ ব্যবসায়ীসহ বিদেশী কোম্পানিদের যৌথ অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা, কালকারখানা ও শিল্পের চাহিদানুযায়ী মানবসম্পদ তৈরি করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় এডিবির প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট তাহসিন এইচ চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন-বাংলাদেশের ৭০-৮০ ভাগ উন্নয়ন হচ্ছে প্রাইভেট সেক্টরের মাধ্যমে। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে এবং ঢাকা-বগুড়া হাইওয়ের ৫০ কি.মি. এর মধ্যে সরকার লজিস্টিক নেটওয়ার্ক করতে চায়। সরকার প্রাইভেট সেক্টরের সাথে যৌথভাবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে।
তাই সরকারের নেতৃত্বাধীন আইজিএনডির মাধ্যমে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, রপ্তানি সক্ষমতা ও আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার লক্ষ্যে প্রাইভেট সেক্টরের চাহিদা জানতে এ ধরণের অংশীজন মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে এবং আরও বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সাথে আলোচনা করা হবে। এসব আলোচনা ও মতামতের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন, সংযোগ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে অর্থ সহায়তার লক্ষ্যে এডিবিতে প্রস্তাবনা প্রদান করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সভায় বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ীরা বলেন-দেশের শিল্পায়নের সাথে যে বিষয়গুলো জরুরী বিশেষ করে ইউটিলিটি সুবিধা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী উপযুক্ত শিল্প কারখানা স্থাপনের কোন বিকল্প নেই। তাছাড়া বিদেশিদের পাশাপাশি দেশীয় প্রাইভেট সেক্টরকে মূল্যায়ন করা ও মতামত নেওয়া, মাল্টিমোডাল যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, সরকারি নীতি ও পলিসির ধারাবাহিকতা রক্ষা করা, কক্সবাজার অঞ্চলে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলা এবং পেপারলেস ও ফেইসলেস কাস্টমস সেবা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে চেম্বারের সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, চেম্বার পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ গোলাম সরওয়ার, বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মোঃ রফিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহ-সভাপতি এ. এম. মাহবুব চৌধুরী, বিকেএমইএ’র পরিচালক আহমেদ নূর ফয়সাল, চেম্বারের সাবেক পরিচালক রাহবার এ আনোয়ার ও প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশন’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ শওকত আলী, ওয়েস্টার্ণ মেরিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন সোহেল হাসান, বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক খন্দকার বেলায়েত হোসেন, এমএনসি প্যাকেজিং লিঃ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিন মাহমুদ চৌধুরী, এমটেক’র সিইও প্রকৌশলী তাইমুর আহমেদ, জিপিএইচ ইস্পাত লিঃ’র মিডিয়া এডভাইজর অভীক ওসমান, বিএসআরএম গ্রুপের মনির হোসেন বক্তব্য রাখেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে চেম্বার পরিচালক পরিচালক কামাল মোস্তফা চৌধুরী, আমান উল্লা আল ছগির (ছুট্টু) ও আসাদ ইফতেখার, এডিবির প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট আবেদ খানসহ বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।