ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজে শোচনীয় পরাজয়ের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন তোলপাড়। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোয়ানোর পরপরই জাতীয় দলে আমূল পরিবর্তনের কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বার্মিংহামের এজবাস্টনে হতে যাওয়া তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে দল থেকে একযোগ বাদ দেওয়া হয়েছে ৭ জন প্রথম সারির ক্রিকেটারকে। শুধু তা-ই নয়, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকেও।
সিরিজ বাঁচানোর কোনো সুযোগ না থাকলেও শেষ টেস্টে নতুন মুখ ও নতুন নেতৃত্বের ছায়ায় ঘুরে দাঁড়াতে চায় পাকিস্তান। পিসিবির এই নজিরবিহীন সার্জারিতে ড্রেসিংরুমে আনা হয়েছে বিশাল রশদ বদল।
দল থেকে ছাঁটাই ও নতুনদের আগমন
অভিজ্ঞতার তোয়াক্কা না করে স্কোয়াড থেকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আগা, আমের জামাল, খুররম শাহজাদ, আলী উসমান এবং আওয়াইস জাফরকে। তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফাজালের মতো উদীয়মান ব্যাটাররা, যাঁদের দুজনের ঝুলিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব মিলিয়ে মাত্র ১০টি ম্যাচের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর পাশাপাশি একদম নতুন ও অনভিজ্ঞ ৫ জন আনক্যাপড ক্রিকেটারকে স্কোয়াডে যুক্ত করা হয়েছে—আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান রান্ধাওয়া এবং রেজাউল্লাহ।
কোচিং প্যানেলে রদবদল
লর্ডস টেস্টের হারের পরেই টেস্ট দলের প্রধান কোচের পদ হারিয়েছেন সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুল। লাল বলের এই সংকটে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে হোয়াইট বল (সীমিত ওভারের) দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন এবং বোলিং কোচ অ্যাশলি নফকের হাতে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে এজবাস্টনে শুরু হতে যাওয়া শেষ টেস্টে হেসনের নির্দেশনায় মাঠে নামবে নতুন চেহারার পাকিস্তান দল।
বার্মিংহাম টেস্টের পুনর্গঠিত পাকিস্তান দল
বাশার আজম (অধিনায়ক), আবদুল্লাহ ফাজাল, আরাফাত মিনহাস, আজান আওয়াইস, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ আলী, মুহাম্মদ ইমরান, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, মুহাম্মদ গাজি ঘোরি (উইকেটরক্ষক), রেজাউল্লাহ, সাদ বেগ (উইকেটরক্ষক), সাইম আইয়ুব, সাজিদ খান, সৌদ শাকিল, শান মাসুদ এবং উবাইদ শাহ।