কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজের কারণে সেখানকার জেলা প্রশাসকসহ (ডিসি) চারজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হয়েছে। গত রবিবার পরিবেশ ও মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইআরপিবি) সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ এ মামলাটি করেন।
গতকাল সোমবার বিচারপতি জেবিএম হাসানের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির পর্যায়ে আসে। আদালত আজ মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য করেন। যাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা হলেন জেলা প্রশাসক এমএ মান্নান, সংশ্লিষ্ট স্থাপনা নির্মাণের প্রকল্প পরিচালক রাশিদুর রহমান, কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আদনান চৌধুরী এবং জাপানি সংস্থা জাইকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি তাকাহাসকি জানকো।
আদালত অবমাননার অভিযোগের আগে সম্প্রতি এ চারজনকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ চলছে মর্মে সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বালিয়াড়িতে স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে ১৬ বছর আগে জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। হাইকোর্ট ডিভিশন রুল জারি এবং রুলের শুনানি শেষে ২০১১ সালে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা এবং বালিয়াড়িতে নির্মাণকৃত সব স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন। এ রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে ইতিপূর্বে দুই দফায় বালিয়াড়িতে স্থাপিত বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও কক্সবাজার পৌরসভা একটি প্রকল্প গ্রহণ করে বালিয়াড়ির ভেতরে স্থাপনা নির্মাণ করে আদালতের আদেশ অমান্য করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘২৪ আগস্টের পর আবার বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণ করে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা আদালত অবমাননার শামিল।’