অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের রোমাঞ্চকর অনুভূতি আর মাঠের ভেতরের সব গল্প নিয়ে বাংলাদেশ দলে এখনো যেন বইছে আনন্দের জোয়ার। সম্প্রতি ডারউইনের সেই ঐতিহাসিক জয়ের সাফল্য অর্জন করে দেশে ফিরেছেন মিরাজ-হাসানরা। তারই স্মৃতিচারণ করে বিসিবির পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় সেই সফরের নানা গল্পের কথা শোনালেন শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ ও দলের সবচেয়ে তরুণ অমিত হাসান।
পেসারদের ফাইফারের স্বপ্নপূরণ থেকে শুরু করে জুনিয়র ক্রিকেটারের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার এক অনন্য সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহ, সব মিলিয়ে অজি বধের সেই সোনালী স্মৃতিগুলো এখন জাতীয় দলের এই তারকাদের হৃদয়ে অমর হয়ে রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ে নিজের ব্যক্তিগত প্রাপ্তির কথা বলতে গিয়ে পেসার শরিফুল জানান, দলের অভিজ্ঞ কোচ হাবিবুল বাশার সুমন ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর অনুপ্রেরণাই তাকে উদ্দীপ্ত করেছিল। এ প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘খেলার আগে হাবিবুল বাশার সুমন স্যার এবং শান্ত ভাইরে বলছি, 'ভাই, এরকম কন্ডিশনে বাইরের দেশে একটা স্বপ্ন থাকে একটা ফাস্ট বোলারের ৫ উইকেট নেওয়া'। তো সুমন স্যার বলেছেন, 'হ্যাঁ, শুধু লাইনে বল করিস'। চেষ্টা করেছি, আলহামদুলিল্লাহ সাফল্য পেয়েছি।’
এছাড়া স্কোয়াডে থেকে প্রথম টেস্ট জয়ের সাক্ষী হওয়াকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা স্মৃতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন এই বাঁহাতি পেসার।
অন্যদিকে, দলের ড্রেসিংরুমের দারুণ টিম স্পিরিট ও ভালোবাসার কথা স্মরণ করেছেন তরুণ ব্যাটার অমিত হাসান। দলের কনিষ্ঠ সদস্য হওয়ায় সতীর্থদের কাছ থেকে পাওয়া বিশেষ সম্মান তাকে এক অদ্ভুত তৃপ্তি দিয়েছে। ট্রফি জয়ের সেই মুহূর্তটির কথা উল্লেখ করে অমিত বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সিরিজে অনেকগুলো স্মৃতি আছে। যদি একটা বলতে চাই সেটা ট্রফি নেওয়ার সময়। ট্রফি নেওয়ার সময় দলের সবাই বলতেছিল 'অমিতের হাতে দাও, অমিতের হাতে দাও'। আমি দলের সবথেকে জুনিয়র, ট্রফিটা তাই আমার হাতে দেওয়া হয়েছিল। আমার বেশ ভালো লেগেছিল। এটাই আমার কাছে সেরা স্মৃতি।’
এদিকে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতলেও অন্যরকম এক মজার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন পেসার হাসান মাহমুদ। সেই স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমি অবাক হয়েছিলাম প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ-এ কোনো প্রাইস মানি নাই। সমস্যা নাই, প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ হওয়াটাই বড় বিষয়, এবং পুরো বাংলাদেশ সাক্ষী হয়ে থাকবে এবং এটা আমার জীবনের একটা স্মরণীয় দিন।’ ডারউইনের মাটিতে পাঁচ উইকেট শিকারের পাশাপাশি ম্যাচসেরা হওয়ার এই গৌরবময় অর্জনকে নিজের জীবনের সেরা প্রাপ্তি হিসেবেও দেখছেন এই ডানহাতি পেসার।
বাংলাদেশের ধাক্কায় বদলে গেল অস্ট্রেলিয়া, এবার সতর্ক জিম্বাবুয়েকে নিয়েও