অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে তাদের দর্প চূর্ণ করা, কথাটি শুনতেই একসময় অসম্ভব ঠেকতো। তবে সেই অসাধ্য সাধন করেই ক্রিকেটবিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ দল। ২৩ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তাদের কুপোকাত করে দেশে ফিরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ঐতিহাসিক এই সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ ড্র করলেও ডারউইনে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে উড়িয়ে দেওয়ার কীর্তি নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে বাংলাদেশকে। তবে ম্যাকাইয়ে ব্যাটিং ব্যর্থতা আর প্রতিকূল কন্ডিশনে সিরিজ জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হলেও, পেসারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও বিশ্বমঞ্চে দেওয়া এই সাহসী বার্তা নিয়ে উচ্ছ্বসিত পুরো টিম ম্যানেজমেন্ট।
অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে দেশে পৌঁছায় বাংলাদেশ দল। সেখানে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের। বিদেশের মাটিতে পেসারদের ২০ উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য এবং এই ঐতিহাসিক সিরিজের প্রাপ্তি নিয়ে তিনি খোলামেলা কথা বলেন।
পেস বোলিংয়ের মুন্সিয়ানা ও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিমানবন্দর প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের তালহা জুবায়ের বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে আমরা দাপট দেখিয়ে হারাব, এতগুলো সেশন কোনো সেশনেই তারা প্রথম টেস্টে আমাদের সাথে পারেনি, এটা অনেক বড় ব্যাপার।’
বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের এই পারফর্মকে বিশ্ব ক্রিকেটে বড় বার্তা আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়াকে হারানো আমাদের জন্য বিশাল ব্যাপার। এটি বিশ্ব ক্রিকেটে একটি বার্তা দেয় যে আমরা যেকোনো দলকে হারাতে পারি। সামনে আমাদের যে সফরগুলো আছে, সেখানে এই অভিজ্ঞতা অনেক কাজে দেবে।’
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হাসান-শরীফুলদের পেস দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। সঙ্গে তাসকিন-এবাদতরাও ছিলেন ছন্দে। বিদেশের মাটিতে জিততে হলে এই সেক্টরে এমন দাপটই যেন দেখাতে হতো। এই প্রসঙ্গে তালহা বলেন, ‘আপনার পেস বোলাররা যখন ভালো পারফর্ম করে, তখনই বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয়ের আশা করা যায়। আপনাকে ২০ উইকেট নিতে হবে। আমাদের জন্য এটি অবশ্যই ভালো একটি লক্ষণ। আশা করি, তারা নিজেদের এই ফর্ম ধরে রাখতে পারবে।’
এদিকে, ম্যাকাই টেস্টে হেরে সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার কারণ হিসেবে ব্যাটিং ব্যর্থতা এবং টসের ভাগ্যকে বড় করে দেখেছেন সাবেক এই পেসার। ‘এটি দলীয় খেলা। অবশ্যই এই বিষয় নিয়ে উদ্বেগ আছে। ব্যাটসম্যানরা যদি আরেকটু ভালো করতে পারত, তাহলে দ্বিতীয় টেস্টে আমরা আরও ভালো ফল পেতে পারতাম কিংবা আরও ভালো খেলতে পারতাম। দ্বিতীয় টেস্টে টসও খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। উইকেটে অনেকটা টেনিস বলের মতো বাউন্স ছিল। আমরা সেটার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারিনি, সেখানেই আমাদের কিছুটা সমস্যা হয়েছে। দ্বিতীয় টেস্টে আমরা জানতাম, অস্ট্রেলিয়া শক্তভাবে ফিরে আসবে। টস শেষ পর্যন্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। টস আমাদের পক্ষে গেলে ফল উল্টে যেতে পারত।’
এছাড়া সফরে পাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমর্থনের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত তালহা জানান, টেস্ট জেতার পর তারা যেখানেই গেছেন, সেখানেই অভূতপূর্ব সমর্থন পেয়েছেন। শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিরাই নন, অন্যান্য দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরাও তাদের সমর্থন জুগিয়েছেন, যা পুরো দলের জন্যই অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল।
হালান্ড-শেরকির জোড়া গোলে অপ্রতিরোধ্য ছন্দে ফিরল সিটি