সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণার পর বেসরকারি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য দ্রুত ‘জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড’ গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য অবিলম্বে ন্যায্য মজুরি কাঠামো প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
বিবৃতিতে সাইফুল হক বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করার পর অনতিবিলম্বে বেসরকারি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করা জরুরি। বেসরকারি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য এখন বাঁচার মতো ন্যায্য মজুরি কাঠামো প্রণয়ন করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে একদিকে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, অন্যদিকে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাইফুল হক বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর পর বেসরকারি খাতের কয়েক কোটি শ্রমিক-কর্মচারীর বেতন না বাড়লে দেশে ভয়াবহ বৈষম্য ও ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি তৈরি হবে। বেসরকারি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীরা যে বেতন পান, তা দিয়ে মাসের ১৫ থেকে ২০ দিন চলাও কঠিন।
দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার অস্বাভাবিক ব্যয়ের কারণে বেসরকারি খাতের স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নতুন পরিস্থিতিতে খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়া, পরিবহনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে বেতন বাড়লেও শেষ পর্যন্ত তা বিশেষ কাজে আসবে না। এতে শুধু বেতনের টাকার অঙ্ক বাড়বে, কিন্তু চাকরিজীবীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে না।
এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক।