যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চলমান সংঘাতে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ থাকায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ নভেম্বর পর্যন্ত বাতিল (ফোর্স মেজর) করেছে কাতার এনার্জি। ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আওতায় ইউরোপ ও এশিয়ার বেশকিছু ক্রেতা দেশের এলএনজি সরবরাহ বাতিল অব্যাহত থাকবে। এশিয়ার ক্রেতাদের মধ্যে ফোর্স মেজরের আওতায় রয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানি চুক্তিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী কাতার। প্রতি বছর দেশটি থেকে অন্তত ৪০ কার্গো এলএনজি আসে দেশে। সংঘাত না বাধলে দীর্ঘমেয়াদি দুটি চুক্তির আওতায় চলতি অর্থবছরে দেশটি থেকে মোট ৫৬ কার্গো এলএনজি আসার কথা ছিল। যদিও এখন এসব কার্গোর মধ্যে অর্ধেক পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
‘ফোর্স মেজর’ হচ্ছে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মহামারীর মতো অপ্রত্যাশিত ও অনিবার্য পরিস্থিতিতে চুক্তি পালনের বাধ্যবাধকতা থেকে সাময়িক অব্যাহতি। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘœ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৪ মার্চ কাতার এনার্জি প্রথম এলএনজি কার্যক্রম স্থগিত করে এবং ফোর্স মেজর ঘোষণা করে। এরপর মার্চে কাতার এনার্জির রাস লাফান স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কাতারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানান, রাস লাফানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে। এলএনজি রপ্তানি মারাত্মকভাবে সীমিত থাকার মধ্যেই কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরানে ইরানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দোহা পরিস্থিতির উত্তেজনা কমানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত শুক্রবার কাতার এনার্জি পাকিস্তানের ক্রেতাদের জানিয়েছে, এলএনজি কার্গো বাতিলের ঘটনা অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জ্বালানি বাজার সম্পর্কিত গবেষণা ও বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথভাবে পাকিস্তানের এলএনজি আমদানির ৯৯ শতাংশ, বাংলাদেশের ৭২ শতাংশ এবং ভারতের ৫৩ শতাংশ সরবরাহ করে। এসব দেশে এলএনজির ব্যবহার মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে কেন্দ্রীভূত। সরবরাহ সংকটের কারণে ভারত শিল্প খাতে এলএনজি সরবরাহে রেশনিং বা বরাদ্দ সীমিত করেছে, বাংলাদেশ স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার দিকে ঝুঁকেছে এবং পাকিস্তান জরুরি গ্যাস ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে।