বাংলাদেশে এসে টিকিট কেটে প্রথম ট্রেনে চড়লেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৮ এএম

বাংলাদেশে এসে প্রথমবার ট্রেনে ভ্রমণ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেলওয়ে জংশন স্টেশন সংলগ্ন বাংলাদেশ রেলওয়ের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা (কেলোকা) পরিদর্শন শেষে স্টেশনে এসে টিকিট কেটে স্ত্রী মিসেস ডিয়েন ডাও’কে সঙ্গে নিয়ে ট্রেনে চড়ে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলস্টেশনে যান তিনি। এ সময় ট্রেনে উপস্থিত টিকিট পরীক্ষককে (টিটিই) নিজের ক্রয় করা টিকিট দেখান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

পরে ট্রেন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশ রেলওয়েতে ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমি মাত্রই বাংলাদেশ রেলওয়েতে আমার জীবনের প্রথম ভ্রমণ সম্পন্ন করলাম। এটি চমৎকার ভ্রমণ ছিল। আমি ট্রেনে ভ্রমণ করতে খুবই ভালোবাসি। বিশ্বের নানা দেশে ট্রেনে ভ্রমণ করেছি। তবে এই ভ্রমণ খুবই বিশেষ ছিল; কারণ, যুক্তরাষ্ট্র শুরুর দিক থেকেই বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।’
 
তিনি বলেন, ‘আজকে ট্রেনের যে লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিনটি ব্যবহার করা হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান প্রোগ্রেস রেলের তৈরি।’
 
পার্বতীপুরের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ ওয়ার্কশপ পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আজ দুপুরে আমি পার্বতীপুরের সেন্ট্রাল লোকোমোটিভ ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেছি। সেখানে দেখলাম, কীভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিবেদিতপ্রাণ প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান ও কর্মীরা এখানকার যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার করছেন।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘আমি দেখলাম, যুক্তরাষ্ট্রের লোকোমোটিভগুলো বছরের পর বছর ধরে সেবা দিয়ে আসছে এবং এখনো বাংলাদেশের মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব প্রসঙ্গে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমাদের এই অংশীদারত্বের মূল বিষয়ই হলো যুক্তরাষ্ট্রের চমৎকার প্রযুক্তি এবং এর সঙ্গে বাংলাদেশিদের দক্ষতা ও নিষ্ঠার সমন্বয়।’

 প্রোগ্রেস রেল, ওয়েবটেকসহ আরও অনেক আমেরিকান প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

 রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি আশা করি, আমার এই সফর সেই প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করতে সাহায্য করবে।’
 
তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে শেষ দিন মঙ্গলবার বিকালে তিনি সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ ও জাদুঘর এবং ঐতিহাসিক চিনি মসজিদ ও ক্যাথলিক চার্চ পরিদর্শন করেন।

 সফর শেষে মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
 
রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা নিকোল ক্ল্যারিসা বেসনার্ড, সৈয়দ ফাইজুস সালেহিন ও ফিরোজ আহমেদ।

এসময় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ, জুনিয়র পার্সোনাল অফিসার (জিপিও) নূর ই আলম, প্রশাসনিক ও কারিগরি ওয়ার্কসপ ম্যানেজার মমতাজুল ইসলাম, নীলফামারী জেলার অতিরিক্ত প্রশাসক (সার্বিক) নুজহাত তাসনিম আওন, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা, পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ উন নবী, সৈয়দপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত