প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহুল আলোচিত ভারত সফর চলতি সেপ্টেম্বরে হচ্ছে না। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়টি জানান।
ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফর করবেন। এ সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে। তবে সফরের তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি এমনটি জানিয়ে তিনি বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই।
কূটনৈতিক সূত্রের তথ্যানুযায়ী, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রওনা হতে পারেন। সেখান থেকে তিনি সানফ্রান্সিসকোর সিলিকন ভ্যালিতে যেতে পারেন। চলতি মাসের শেষ দিকে তিনি দেশে ফিরবেন।
তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিপক্ষীয় সফরে এবং বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে চলতি মাসের মাঝামাঝি ব্রিকস আউটরিচ কর্মসূচিতে যোগদানের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে ঢাকায় শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। তখন থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপড়েন শুরু হয়। শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের তাগিদ এবং নয়াদিল্লি থেকে তার রাজনৈতিক কর্মকা- কেন্দ্র করে টানাপড়েন তীব্রতর হয়। এমন প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের ভারত সফর অনিশ্চিত হয়ে যায়। বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের কয়েক নেতার অংশগ্রহণে নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের আয়োজনে গত ২৯ আগস্টের একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও পুলিশের ‘হস্তক্ষেপে’ তা বাতিল হয়। এর আগে একই ধরনের একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় ঢাকা থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যে ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, বাংলাদেশ বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে অপরাধী বা পলাতকদের বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর প্রতিমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কোনো দেশই যেন অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত না হয়, সেই বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারত থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো দুষ্কৃতকারীকে বাংলাদেশ আশ্রয় দেবে না। একইভাবে ভারতও বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো দুষ্কৃতকারীকে আশ্রয় দেবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, কোনো ধরনের চাপের কারণে বোয়িং কেনা হচ্ছে না। বরং দেশের নিজস্ব প্রয়োজন ও চাহিদার পাশাপাশি আকাশপথে যোগাযোগের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র (অ্যাভিয়েশন হাব) গড়ে তোলার বিবেচনা থেকে এসব উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে।
অতীতে আটকে থাকা নয় : দীনেশ ত্রিবেদী
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার কোনো সুযোগ নেই। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, দ্ইু দেশের মধ্যে চ্যালেঞ্জ থাকবে। তবে সেসব চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় রেখে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অতীতকে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
হাইকমিশনার রাজধানীর সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত সরকারই জনগণের জন্য কোনটি ভালো, তা ভালোভাবে বুঝবে। তিনি বলেন, দুই দেশের সরকার যে সিদ্ধান্ত নেয়, তার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। সাধারণ মানুষের যেন ভালো হয়, সে জন্য সরকারের দায়িত্ব রয়েছে।
প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশ সমান এমন মনোভাবের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সীমান্তের সঙ্গে স্বপ্ন্ও শেয়ার করি। সে জন্য প্রতিবেশী হিসেবে দায়িত্ব বেড়ে যায়। আমরা সমান। কেউ বড় কিংবা ছোট নই।’