বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ফেলা প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ১৫ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বর্জ্য অপসারণের পর চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেন।
নদীর দূষণ বন্ধে ২০১০ সালে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও বুড়িগঙ্গার তীরে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলার বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয় নতুন এই রিটের মাধ্যমে।
আদালতের নির্দেশনায় নৌপরিবহন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকার জেলা প্রশাসক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং লালবাগ ও কামরাঙ্গীর চর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ১৩ জনকে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) গণমাধ্যমে গত ১৯ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রিটটি দায়ের করে। ওই প্রতিবেদনে বুড়িগঙ্গার তীরে শত শত প্লাস্টিক বর্জ্য ও অন্যান্য আবর্জনা পড়ে থাকার চিত্র তুলে ধরা হয়।
রিট আবেদনে বলা হয়, নদীর তীরে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে এসব বর্জ্য ধীরে ধীরে বুড়িগঙ্গার পানিতে গিয়ে পড়বে। এতে নদীর পানি আরও দূষিত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে নদী রক্ষায় নেওয়া উদ্যোগও ব্যাহত হবে।
২০১০ সালে বুড়িগঙ্গা দূষণ রোধে এইচআরপিবির করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নদীর দূষণ বন্ধে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ওই নির্দেশনার অংশ হিসেবে নদীর তীরে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধ করা হয়।
তবে দীর্ঘ সময় পরও নদীতীরে বর্জ্য ফেলার ঘটনা অব্যাহত থাকায় বুড়িগঙ্গার দূষণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রিটে বলা হয়, নদীতীরে জমে থাকা এসব বর্জ্য অপসারণ না করলে তা সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল ও নাসরিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।
মনজিল মোরশেদ বলেন, বুড়িগঙ্গার দূষণ ঢাকার পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। হাইকোর্টের আগের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নদীর তীরে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলে রাখা হচ্ছে। এসব বর্জ্য শেষ পর্যন্ত নদীতে গিয়ে পড়লে দূষণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
এইচআরপিবির পক্ষে মো. সরওয়ার আহাদ চৌধুরী গত ৩০ আগস্ট রিট আবেদনটি করেন।