সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস (বিএজে)-এর মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদ্য বিদায়ী আগস্ট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৫১ জন সংবাদকর্মী বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে শারীরিক হামলা ও আঘাতের শিকার হয়েছেন ৪২ জন, আইনি হয়রানির শিকার হয়েছেন পাঁচজন এবং হুমকি, হেনস্তা ও পেশাগত কাজে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন চারজন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিএজে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ধারাবাহিকভাবে বিগত দিনের মতো আগস্ট ২০২৬ মাসেও বাংলাদেশের সাংবাদিকদের জন্য কর্মপরিবেশ ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ঝুঁকিপূর্ণ। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকরা শারীরিক হামলা, আইনি হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন। দেশের মূলধারার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং নিজস্ব সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে।
শারীরিক হামলা ও আঘাত
আগস্ট মাসে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, কিশোর গ্যাং ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে ১৮টি ঘটনায় অন্তত ৪২ জন সংবাদকর্মী আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকায় এক পথচারী নারীকে পুলিশের মারধরের ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় গ্লোবাল টেলিভিশনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার বুলবুল হোসেনকে পুলিশ ভ্যানে তুলে অমানবিক নির্যাতন করা হয়।
এ ছাড়া আগস্ট মাসে সাংবাদিকদের ওপর বেশ কয়েকটি ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ছাত্রদলের হামলায় কামরুজ্জামান কায়েসসহ ছয় সাংবাদিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। রাজধানীর বকশীবাজারেও ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষের খবর সংগ্রহকালে দুই সাংবাদিক আহত হন।
এ ছাড়া কক্সবাজারে শুল্ক ফাঁকি চক্রের হামলায় চার সাংবাদিক আক্রান্ত হন। যশোরে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইবার হামলার শিকার হন পাঁচজন স্থানীয় সাংবাদিক।
হামলার শিকারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— ডেইলি স্টারের জাহিদ হাসান রনি, ওমর আলি সোহাগ, যমুনা টিভির রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন, স্টার নিউজের মোহাম্মদ জুবাইর, আবদুল্লাহ আল মারুফ, সময় টিভির বিএম ইস্রাফিল, নিউজ টোয়েন্টিফোরের বিধান মজুমদার অনি, বাংলাদেশ বেতারের রাব্বি আহমেদ এবং সমকালের নাজমুল ইসলাম।
আইনি হয়রানি
সাংবাদিকদের আইনি হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। আগস্ট মাসে অন্তত পাঁচজন সংবাদকর্মী আইনি হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
হুমকি, হেনস্তা ও পেশাগত কাজে বাধা
আগস্ট মাসে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অন্তত চারজন সাংবাদিক হুমকি, হেনস্তা ও বাধার সম্মুখীন হয়েছেন।
সাংবাদিকদের ওপর চলমান এসব আক্রমণ, বাধা ও আইনি হয়রানির জন্য সরকারের বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে দায়ী করেছে বিএজে। সংগঠনটি মনে করে, এ পরিস্থিতি মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য একটি অশনি সংকেত।
বিএজে বলেছে, রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বা পেশিশক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সরকারকে বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে।
প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বিএজে।