মিসরের ৭১ বছর বয়সী নারী এক দিনেই সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ তেলাওয়াত করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
মিসরের সংবাদ মাধ্যম মাসরায়ির এক প্রতিবিদেনে বলা হয়, সম্প্রতি মেনুফিয়া শহরের মেইত শাহালা গ্রামের বাসিন্দা হাজিয়া সানা ফজরের নামাজের পর শুরু করে মাগরিব পর্যন্ত সময়ে একটানা তেলাওয়াতের মাধ্যমে কোরআন খতম করেন।
হাজিয়া সানার এই কৃতিত্বের পেছনে রয়েছে কোরআনের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক দশকের গভীর সম্পর্ক এবং অদম্য অধ্যবসায়ের গল্প। জীবনের নানা ব্যস্ততা, সংসারের দায়িত্ব ও কঠিন পরিস্থিতি তাকে বারবার থামিয়ে দিলেও কোরআন থেকে তিনি কখনো দূরে সরে যাননি।
কোরআনের প্রতি তার ভালোবাসার সূচনা ঘটে তরুণ বয়সে। নিয়মিত রেডিওতে কোরআনের তেলাওয়াত শুনতে শুনতেই তার মনে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করার আগ্রহ তৈরি হয়।
হাজিয়া সানা বলেন, ‘এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার। আমি বিশ বছর বয়সে কোরআন মুখস্থ করেছি। রেডিওতে কোরআন শুনতে শুনতে এই মহাগ্রন্থের প্রতি আমার ভালোবাসা তৈরি হয় এবং তা মুখস্থ করার দৃঢ় সংকল্প জন্ম নেয়।’
তার এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। কোরআন মুখস্থ করার পাশাপাশি তাকে সামলাতে হয়েছে সংসার ও সন্তানদের দায়িত্ব। তিনি তিন ছেলের মা। তাদের মধ্যে মুহাম্মদের বয়স ৫০ বছর, মাহমুদের ৪৫ বছর এবং মুস্তাফার বয়স ৪২ বছর।
সংসারের ব্যস্ততার মধ্যেও হাজিয়া সানা কোরআনের জন্য সময় বের করে নিতেন। একপর্যায়ে তিনি সুরা নাহল পর্যন্ত মুখস্থ করেন। কিন্তু স্বামীর অসুস্থতার কারণে তার হিফজের যাত্রায় ছেদ পড়ে।
স্বামীর ছয় মাসের অসুস্থতার সময় তিনি তার সেবাযত্নে ব্যস্ত থাকায় কোরআন মুখস্থের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন। স্বামীর মৃত্যুর পরও তাকে কঠিন এক সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ফলে দীর্ঘ সময় তিনি আগের মতো কোরআন মুখস্থ ও তেলাওয়াত চালিয়ে যেতে পারেননি।
কিন্তু সেই বিরতি কোরআনের সঙ্গে তার সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটাতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে তিনি আবার কোরআনের কাছে ফিরে আসেন। মুখস্থ করা অংশগুলো পুনরাবৃত্তির জন্য সহযোগীও খুঁজে নেন।
বর্তমানে হাজিয়া সানা ২০ জনেরও বেশি নারীর সঙ্গে নিয়মিত কোরআন পুনরাবৃত্তির আসরে অংশ নেন। বিভিন্ন বয়সের এসব নারী একসঙ্গে বসে নিজেদের মুখস্থ করা কোরআনের অংশ তেলাওয়াত ও পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে নেন। তাদের মধ্যে তার এক প্রতিবেশী ও বান্ধবীও রয়েছেন, যিনি নিরক্ষর হওয়া সত্ত্বেও সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করেছেন।
কোরআনের সঙ্গে হাজিয়া সানার দীর্ঘ পথচলার অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা হলো, এক দিনে সম্পূর্ণ কোরআন তেলাওয়াত। ফজরের নামাজের পর তিনি মুখস্থ তেলাওয়াত শুরু করেন। ধীরস্থির ও স্বাভাবিক গতিতে তেলাওয়াত করতে করতে মাগরিবের সময় পুরো কোরআন খতম করেন।
তার এই অর্জনের কৃতিত্ব তিনি নিজেকে দিতে নারাজ। বরং সবকিছুকে আল্লাহর সাহায্য হিসেবে দেখেন তিনি। তার ভাষায়, ‘এটি আমার বুদ্ধিমত্তা বা মেধার কারণে হয়নি। এটি আল্লাহর সাহায্য।’
আমলের আগে জ্ঞান জরুরি
গাজায় এক আসরে ১১০ ছাত্রীর কোরআন খতম