বিল ও সভাপতি পদ নিয়ে সংসদে বাহাস

সহযোগিতা করলে পাক্কা হিস্যা পাবেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে থাকলে আর কোনো মন্ত্রী না থাকলেও চলে: বিরোধীদলীয় নেতা

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম

জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন ও সংসদীয় কমিটি গঠন নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে সভাপতি পদ নিয়ে বাহাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিল উত্থাপনের বিরোধিতা করেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। উত্থাপনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ নিয়ে উভয়ে কয়েকবার যুক্তি-পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেন।

এ ছাড়া কমিটি গঠনের আগে বিরোধী দল থেকে সভাপতি পদ দেওয়ার প্রসঙ্গের অবতারণা করেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। সেটিরও জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন। তা হলে হিস্যা অনুযায়ী কমিটি পুনর্গঠন করে আপনাদের সভাপতি পদ দেওয়া হবে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই সংসদে আমরা ৩৪৯ জন সদস্য এখন আছি। একটা সিট খালি আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে যখন থাকেন, আইদার পজিটিভ অর নেগেটিভ—সংসদ খুব প্রাণবন্ত থাকে। উনি থাকলে বাকি মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ যারা আছেন, তারা না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কালকে বলেছেন, অতীতে বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধী দল থেকে স্থায়ী কমিটিতে সভাপতি দেওয়ার কোনো নজির নেই। এটা উনি ঠিকই বলেছেন। একটা ছাড়া, সেটা হলো নবম জাতীয় সংসদ। যেখানে বিরোধী দলে আমরা মাত্র দুইজন ছিলাম, আপনারা ২৪ জন ছিলেন। টোটাল অল টুগেদার ২৬ জন ছিলেন। সেখানে কিন্তু বিরোধী দল থেকে দুইজন স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। সুতরাং আছে। তবে আমি এজন্য তাকে দোষী না, কারণ ওই সংসদে উনি ছিলেন না। কিন্তু নজির আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উনি এবং প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। তো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিভিন্নভাবে হতে পারে। একতরফা করলেও আমরা রাগ করব না। আমরা এটার বাস্তবায়নটা চাচ্ছি। তা আমি যা স্মরণ করে দিলাম যে, না, সভাপতি আছে।’

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যাকে সভাপতি করা হতো, সেই ট্রাডিশনটা আমরা ফলো করে বিরোধীদলীয় উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে আমরা সেই কমিটির সভাপতিত্ব ইতোমধ্যে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘এখন তিনি দাবি করছেন যে জুলাই জাতীয় সনদ আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করি। এটা তো আমাদের প্রতিশ্রুতি, অঙ্গীকার। কিন্তু আমরা বলেছি, আপনারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে আসুন। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হবে। সংবিধান সংশোধিত হবে। একইভাবে জুলাই জাতীয় সনদ অনুসারে আসনের সংখ্যানুপাত অনুযায়ী আপনারা স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতিত্ব পাবেন। এগুলো সবই হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা শুভসূচনা করুন। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আপনারা অংশগ্রহণ করুন। যা বক্তব্য আছে, সেখানে দিন। আমরা এই ওয়াদা জাতীয় সংসদের এই ফ্লোরে দাঁড়িয়ে দিতে পারি, যথাশিগগির সম্ভব আমরা সেই সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে আসি, যাতে করে তাড়াতাড়ি কার্যকর করা যায় এবং সংসদের উচ্চকক্ষ স্থাপন করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা এখানে জুলাই জাতীয় সনদ অনুসারে একেবারে পাক্কা হিস্যা এখন থেকে চাইবেন, সহযোগিতায় আসবেন না—দুইটা তো একসঙ্গে যায় না। আমরা তাই আহ্বান করছিলাম। আসুন, আমরা একসঙ্গে বসে সংবিধান সংশোধন করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করি। অ্যাকর্ডিংলি আপনারা সবকিছু পাবেন। এটাই সহযোগিতা। আপনারা সংস্কার বলুন, আমরা সংশোধনী বলি—কথা তো একই। কিন্তু এটা করতে হবে তো জাতীয় সংসদে। এটাই ছিল আমাদের আহ্বান। আপনারা বাইরের রাজনীতিতে যা-ই বক্তৃতা দেন না কেন, এখানে তো আমাদের সবাইকে একসঙ্গে বসে তর্কের মধ্য দিয়ে এটা নিতে হবে। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। দয়া করে সেটা অনুধাবন করলে ভালো।’

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি

এদিকে জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়াকে সভাপতি করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী (সংসদ সদস্য হলে), প্রতিমন্ত্রী শরীফুর আলম, সরকারদলীয় এমপি এস এম ফয়সল, নাছির চৌধুরী, মো. আবদুল্লাহ, রেজেকা সুলতানা, বিরোধী দলের সদস্য আফজাল হোসেন, হাফেজ মুহা. রবিউল বাশার ও মাহবুবা হাকিম।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত