মাঠে পাট শুকানোর ধুম

নাটোরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দখল করে ‘শ্রমিকমেস’

নাটোরের পোকন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন ১৫ দিন ধরে 'শ্রমিকমেস' হিসেবে ব্যবহার করছেন ১৫ জন কৃষিশ্রমিক।

 

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৫ এএম

নাটোরের লালপুর উপজেলার পোকন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি অব্যবহৃত পুরোনো ভবন অবৈধভাবে দখল করে 'শ্রমিকমেস' বানানোর মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। গত প্রায় ১৫ দিন ধরে উত্তরাঞ্চলের নওগাঁ ও দিনাজপুর জেলা থেকে আসা ১৫ জন কৃষিশ্রমিক অন্যায়ভাবে সেখানে বসবাস করছেন। শুধু তা-ই নয়, বিদ্যালয়ের সরকারি বিদ্যুতের লাইট-ফ্যান ব্যবহার এবং পুরো মাঠজুড়ে পাট ও পাটখড়ি শুকানোর কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার স্বাভাবিক পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নওগাঁ ও দিনাজপুর থেকে আসা এই শ্রমিকেরা স্থানীয় প্রভাবশালী কৃষক আবুল মাজেমের জমিতে পাট কাটাসহ অন্যান্য কৃষিকাজ করতে এসেছেন। আবুল মাজেম ও তাঁর পরিবার তাঁদের থাকার জন্য বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের চাবি এনে কক্ষগুলো ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে পুরো মাঠজুড়ে পাটখড়ি ও পাট ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মাঠে নামতেই পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিদ্যালয়ের ওই ভবনে রাতে গাঁজা সেবনসহ বিভিন্ন সময় নারীদের নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়। এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করায় গত মঙ্গলবার ও বুধবার আবুল মাজেমের ছেলে রুদ্রের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমানের ছেলে রাইদুলের তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং তিন দফায় মারামারি ও আব্দুর রহমানের বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

স্কুলে অবস্থানরত শ্রমিকদের সাথে কথা বললে তাঁরা জানান, তাঁদের মহাজন আবুল মাজেমই এই ভবনে থাকার বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন। কক্ষের কোনো ভাড়া বা বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় কি না, সে বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল মাজেমের ছেলে রুদ্র জানান, এলাকায় শ্রমিক সংকট থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে শ্রমিক আনা হয়েছে। তবে নিজেদের বাড়িতে জায়গা না থাকায় প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেই তাঁদের পরিত্যক্ত কক্ষে রাখা হয়। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি দাবি করেন, গাঁজা সেবন বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে পাট ও পাটখড়ি শুকানোর ফলে শিশুদের স্বাভাবিক খেলাধুলা বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত এই মাঠ দখলমুক্ত করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

নিয়মবহির্ভূতভাবে চাবি হস্তান্তরের বিষয়টি স্বীকার করে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাশিদা খাতুন বলেন, প্রথম দিন শ্রমিকেরা মাঠে পাটখড়ি শুকাতে দিলে বার বার নিষেধ করা সত্ত্বেও তাঁরা শোনেননি। আর পুরোনো ভবনের কক্ষ ব্যবহারের জন্য স্থানীয় কয়েকজন চাবি চাইলে আমি দিয়েছিলাম, যা আমার মস্ত বড় ভুল হয়েছে।

ঘটনাটি সম্পর্কে লালপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন, বিদ্যুৎ বা মাঠ ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক কোনো কাজে ব্যবহারের সুযোগ নেই। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে এবং সত্যতা মিললে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত