কারারক্ষী-আইনজীবী পরিচয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

কারারক্ষী ও আইনজীবীর ছদ্মবেশ ধারণ করে অভিনব কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. আব্দুস সালাম (৪৯) ও সুরুজ (২৬)।

গতকাল শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতেন। পরে ওই জনপ্রতিনিধিদের ফোন করে কৌশলে সংশ্লিষ্ট এলাকার আসামিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেন। এরপর আসামিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের একজনকে ‘কারারক্ষী সাইফুল, কারাগার প্রধান ফটক, কাশিমপুর কারাগার’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। পরিবারের সদস্যদের জানানো হতোÑ তাদের নিকটাত্মীয়ের জামিন নির্ধারিত আইনজীবীর মাধ্যমে নয়, বরং মানবাধিকার সংস্থার আইনজীবী ‘সিরাজ’-এর মাধ্যমে হয়েছে। এ সময় আইনজীবী পরিচয়ে কথা বলার জন্য প্রতারক চক্রের অপর সদস্যের একটি মোবাইল নম্বর দেওয়া হতো। ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা ওই নম্বরে ফোন করলে প্রতারক নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে নরম স্বরে কথা বলতেন এবং জানাতেন, আসামির জামিন হয়েছে। আদালতের অন্যান্য প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং তার হাতে সময় কম। এরপর ভুক্তভোগীদের কাছাকাছি কোনো দোকানের বিকাশ পার্সোনাল নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হতো। পরিবারের সদস্যরা ওই নম্বরে টাকা পাঠানোর পর প্রতারক টাকা তুলে মোবাইল নম্বরটি বন্ধ করে দিতেন এবং মুহূর্তের মধ্যে দোকানের এলাকা থেকে সরে পড়তেন। তিনি বলেন, গত ১ জুলাই হাতিরঝিল থানায় হওয়া বিকাশ/নগদ প্রতারণার মামলা তদন্তের সময় এই অভিনব প্রতারণার বিষয়টি ডিবি পুলিশের নজরে আসে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয় এবং গত বৃহস্পতিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত