ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে জেলার উন্নয়নে ব্যবসা-বাণিজ্য, কলকারখানা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নাগরিক কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়া অঙ্গীকার ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন হচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। ভুল্লী ও রুহিয়াকে উপজেলা করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরও চালু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে হবে। কলকারখানা ও বিনিয়োগও বাড়াতে হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করবেন বলে আশা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, জেলায় কৃষিভিত্তিক বিনিয়োগের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে চীনা রাষ্ট্রদূত ঠাকুরগাঁওয়ে এসেছেন। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। চীন থেকেও যেন কৃষিভিত্তিক বিনিয়োগ আসে, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।
রাজনৈতিক চর্চার নামে সংঘাত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংঘাত ও রক্তপাত তাঁরা চান না। বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সমঝোতার রাজনীতি দেখতে চান। মানুষের অভাব কীভাবে দূর করা যায়, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান কীভাবে বাড়ানো যায়—সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
হিন্দু-মুসলিমের ভেদাভেদ ভুলে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বানও জানান রাষ্ট্রপতি। গণতন্ত্র রক্ষায় হানাহানি ও সংঘাত পরিহার করে অসহিংস রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে খেলার মাঠ তৈরি করা হবে। এ ছাড়া আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় ও আঞ্চলিক সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পীরগঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এর আগে নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয় এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
রবিবার দুপুর ১টায় হেলিকপ্টারে করে দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে আসেন রাষ্ট্রপতি। এরপর সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন। পরে সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন তিনি।
সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে নিজ বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম করবেন তিনি। পরে সার্কিট হাউসে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে তাঁর।
স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না : রাষ্ট্রপতি