সিফাত আব্দুল্লাহর দাবি করা বিলের সাথে আসল বিলের গরমিল: পল্লীবিদ্যুৎ

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১২ এএম

অসহনীয় লোডশেডিং ও ‘ভৌতিক’ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সরকারপ্রধানকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগাল করে গ্রেপ্তার সিফাত আব্দুল্লাহকে কারাগারে। তবে সিফাত আব্দুল্লাহ দুই মাসে ১০ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করেছেন বললেও, গাজীপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর তদন্তে উঠে এসেছে ভিন্ন বাস্তবতা।

সিফাত আব্দুল্লাহ তার ভিডিওতে দাবি করেছিলেন, তিনি গত দুই মাসে (আগস্ট-জুলাই) প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন। তবে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের উপ মহাব্যবস্থাপক মো. আহসান কবীর স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত সিফাত আব্দুল্লাহর পিতার নাম মো. সেকান্দার আলী। গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে তাদের দোতলা বিশিষ্ট বাড়িতে মোট ৩টি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ রয়েছে।

তদন্ত দেখা যায়, সিফাত আব্দুল্লাহদের বাড়ির একটি মিটারে (মিটার নম্বর: S000433*7) মে মাসে ৪৫ ইউনিটের বিল হিসেবে ৩১৭ টাকা, জুনে ৫০ ইউনিটের ৩৪২ টাকা, জুলাইয়ে ১৫০ ইউনিটের ১ হাজার ১৮২ টাকা এবং আগস্টে ৭৫ ইউনিটের বিল আসে ৫১৩ টাকা। সব মিলিয়ে ওই মিটারে চার মাসে মোট ৩২০ ইউনিট ব্যবহারে বিল এসেছে ২ হাজার ৩৫৪ টাকা।

অন্যদিকে আরেকটি মিটারে যার নম্বর S000218*5, সেটিতে মে মাসে ২৫০ ইউনিটের বিল হিসেবে ১ হাজার ৮১২ টাকা, জুনে ২০০ ইউনিটের ১ হাজার ৫৮৪ টাকা, জুলাইয়ে ৪০০ ইউনিটের ৩ হাজার ৫৯৪ টাকা এবং আগস্টে ২৮৫ ইউনিটের বিল হিসেবে এসেছে ২ হাজার ৩৯৭ টাকা।

এই মিটারটিতে গত চার মাসে মোট ১ হাজার ১৩৫ ইউনিট ব্যবহারে বিল এসেছে ৯ হাজার ৩৮৭ টাকা।

এছাড়া ওই বাড়িতে তৃতীয় যেই মিটারটি রয়েছে যার নম্বর S000424*7, সেটিতে মে মাসে ১২৫ ইউনিটের বিল হিসেবে ৮৪৭ টাকা, জুনে ১২০ ইউনিটের ৬৯০ টাকা, জুলাইয়ে ২০৫ ইউনিটের ১ হাজার ৬৩৩ টাকা এবং আগস্টে ১৭৫ ইউনিটের বিল এসেছে ১ হাজার ৩৬২ টাকা। চার মাসে ওই মিটারে মোট ব্যবহার হয়েছে ৬২৫ ইউনিট, যার মোট বিল: ৪ হাজার ৫৩২ টাকা।

অর্থাৎ, মে থেকে আগস্ট ২০২৬ এই চার মাসে তিনটি আবাসিক মিটার মিলিয়ে মোট ২ হাজার ০৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে মোট বিল এসেছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজীপুর বোর্ড বাজার জোনাল অফিস থেকে কর্মকর্তারা সিফাতের বাড়িতে গিয়ে বাসায় ইলেকট্রিক পণ্যের প্রকৃত তালিকা সংগ্রহের কথা জানালে পরিবারটি দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পল্লী বিদ্যুতের বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের ডিজিএম আহসান কবীর বলেন, আমরা সরেজমিনে গিয়ে বিলটি তদন্ত করেছি। তার বাসায় বিল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম বা বেশি বিল করা হয়নি৷ 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত