বাঁশখালীর প্রাথ‌মিক শিক্ষা ব্যবস্থা আধু‌নিকায়‌নে প্রয়োজন শূণ্য প‌দ পূরণ

সম্প্রতি জেলা প্রাথ‌মিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফি‌রোজ আহাম্মদসহ অন‌্যান‌্য দা‌য়িত্বশীল কর্মকর্তারা বাঁশখালী‌তে প‌রিদর্শণ এবং শিক্ষক‌দের সমস্যার কথা শুনে বলেন, শিক্ষার মান বৃ‌দ্ধি‌তে প্রয়োজনীয় উদ্যোগসহ শূণ‌্যপদ পূর‌ণে কার্যকর ব‌্যবস্থা গ্রহন কর‌বে।

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২২ এএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ১৬০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে ১৮৭টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদে ৮৮টি এবং সহকারী শিক্ষক পদে ৯৯টি পদ শূন্য। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে তুলনামূলক কমসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

অপর‌দি‌কে বাঁশখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য জনবল সংকট। অনুমোদিত সাত সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। ফলে ছয়টি পদই শূন্য। একইভাবে অফিস সহকারীর অনুমোদিত দুটি পদের বিপরীতে কোনো জনবল কর্মরত নেই বলে দপ্তরের তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক ও হিসাব সহকারীর পদে জনবল কর্মরত থাকলেও অফিসের সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জনবল ঘাটতি রয়েছে।

সম্প্রতি জেলা প্রাথ‌মিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফি‌রোজ আহাম্মদসহ অন‌্যান‌্য দা‌য়িত্বশীল কর্মকর্তারা বাঁশখালী‌তে প‌রিদর্শণ এবং শিক্ষক‌দের সমস্যার কথা শুনে বলেন, শিক্ষার মান বৃ‌দ্ধি‌তে প্রয়োজনীয় উদ্যোগসহ শূণ‌্যপদ পূর‌ণে কার্যকর ব‌্যবস্থা গ্রহন কর‌বে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদে অনুমোদিত সংখ্যা ১৬০টি। এর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৭২ জন এবং শূন্য রয়েছে ৮৮টি পদ। তবে এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৩ জন শিক্ষক চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৯৭৩টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ৮৭৪ জন এবং শূন্য রয়েছে ৯৯টি পদ। অর্থাৎ, ১৬০টি বিদ্যালয়ের জন্য অনুমোদিত ১ হাজার ১৩৩টি শিক্ষক পদের মধ্যে প্রায় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ পদই বর্তমানে শূন্য। প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যতার হার আরও বেশি–অনুমোদিত ১৬০টি পদের মধ্যে ৮৮টি, অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি পদ শূন্য।

ফলে অনেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষক পদেও ৯৯টি শূন্য থাকায় নিয়মিত পাঠদান ও বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রমতে, ২০২৬ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৩ হাজার ২৪৬ জন। এ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক সংকট থাকায় পাঠদান, প্রশাসনিক দায়িত্ব ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় কর্মরত শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

বিদ্যালয় পর্যায়ে দপ্তরি কাম প্রহরীর ৬৯টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৬৫ জন কর্মরত এবং চারটি পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের মতে, উপজেলা পর্যায়ে বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের পদ শূন্য থাকা বিদ্যালয় পরিদর্শন, একাডেমিক তদারকি, শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বই পালন করেন না, তিনি বিদ্যালয়ের একাডেমিক নেতৃত্ব ও শিক্ষকদের সমন্বয়েরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকেন। ফলে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকা এবং সহকারী শিক্ষক পদে বড় ঘাটতি থাকা প্রাথমিক শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ৩৫টি প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকার পাশাপাশি ৫৩ জন চলতি দায়িত্বে থাকায় স্থায়ী নেতৃত্বের ঘাটতি রয়েছে ১৬০ বিদ্যালয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশে।

বাঁশখালীতে ১৬০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি ৬০ কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ২০২৬ সালের শিশু জরিপ অনুযায়ী উপজেলায় জরিপকৃত শিশুর সংখ্যা ৬৭ হাজার ৯১০ জন। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে ৬৭ হাজার ৫৬৫ জন এবং মোট ভর্তির হার ৯৯ শতাংশ। ফলে প্রাথমিক শিক্ষায় বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় শিক্ষক ও শিক্ষা অফিসের শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাঁশখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুঃ আবদুল হামিম বলেন, বাঁশখালীতে ১৬০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে ১৮৭টি পদ শূন্য রয়েছে। অপর‌দি‌কে সাত সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। ফলে ছয়টি পদই শূন্য। শিক্ষক ও শিক্ষা অফিসের জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। শূন্য পদগুলো পূরণ হলে বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত