বান্দরবানে পাহাড় কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

বান্দরবানের লামা উপজেলায় পাহাড় কাটা বন্ধে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী ওই এলাকায় দায়িত্বরত সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি জানান, লামায় ইটভাটা মালিকেরা পাহাড় কেটে ধ্বংস করছেন—গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশের পর পাহাড় কাটা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে গত ৩০ আগস্ট পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)-এর পক্ষে রিট আবেদন করেন দুই আইনজীবী মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও রিপন বারৈ।

এ রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুলসহ এ আদেশ দেন। পাশাপাশি একটি মনিটরিং টিম গঠন করে তিন দিনের মধ্যে লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত।

একই সঙ্গে আদালত স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধ সাপেক্ষে বান্দরবান আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডারকে পাহাড় কাটা বন্ধে কার্যকর সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আইনজীবী আরও জানান, হাইকোর্ট আরেকটি আদেশে সাত দিনের মধ্যে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনের ১৫ ধারা অনুসারে শাস্তি ও অর্থদণ্ড প্রয়োগের নির্দেশনা দিয়েছেন।

রুলে লামা উপজেলায় পাহাড় কাটা বন্ধে বিবাদীদের (রিট মামলার বিবাদী) নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, বান্দরবানে পাহাড় কাটা ও ধ্বংস করা বন্ধে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং কেটে ফেলা পাহাড়গুলো পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

বন ও পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্থানীয় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন মো. হানিফ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত