ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া জুবলি কোয়ার্টার এলাকায় সাথী আক্তার (৩৮) নামের এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার মামলায় হৃদয় মিয়া (২৯) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. শামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হৃদয় মিয়া আকুয়া জুবলি কোয়ার্টার এলাকার জয়নাল মিয়ার ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে আকুয়া জুবলি কোয়ার্টারে সাথীর ভাড়া বাসায় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। রাত আনুমানিক দুইটা থেকে পাঁচটার মধ্যে হৃদয় ওই বাসার দরজায় টোকা দেন। সাথী দরজা খোলার পর তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সাথীর ছোট বোন মোছা. শিউলি আক্তার বাদী হয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়। পরে তদন্ত শেষে হৃদয়কে একমাত্র আসামি করে ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মেহেদী হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ২৪ সেপ্টেম্বর হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন হৃদয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের আগে মুঠোফোনে সাথীকে উত্ত্যক্ত করা নিয়ে হৃদয়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের আগের দিন থানায় লিখিত অভিযোগও করেছিলেন সাথী। এর জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আনোয়ার আজিজ বলেন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উদ্ধার হওয়া আলামতের ভিত্তিতে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আদালত ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে হৃদয়কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
তবে রায়ে সন্তুষ্ট নন আসামিপক্ষের স্বজনেরা। হৃদয়ের মামা বাবুল মিয়া বলেন, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা।
অন্যদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত সাথীর বোন ও মামলার বাদী মোছা. শিউলি আক্তার। তিনি দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান।
ভোলায় স্ত্রী হত্যা, ২১ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ইউপি সদস্যসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড