তিন শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতা সম্মানিত

রক্তদাতারা মানবিক বাংলাদেশ নির্মাণের পথপ্রদর্শক: ঢাবি উপাচার্য

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

‘প্রথমবার রক্ত দেওয়ার পর মনে হয়েছিল, আমার দেওয়া রক্তে যদি একজন মানুষের জীবন বাঁচে, এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে’—বলছিলেন অঞ্জুমান আরা লিপি। এখন পর্যন্ত ৩০ বার স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতো আরও অনেকেই নিয়মিত রক্ত দিয়ে অসুস্থ ও সংকটাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। এমন মহৎপ্রাণ মানুষদের সম্মান জানাতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। কমপক্ষে ৩, ১০, ২৫ ও ৫০ বার রক্তদান করেছেন—এমন তিন শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতাকে সম্মাননা জানিয়েছে কোয়ান্টাম।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলের আইডিইবি মিলনায়তনে এ সম্মাননা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ৩ বার রক্তদান করে লাইফ লং, ১০ বার রক্তদান করে সিলভার, ২৫ বার রক্তদান করে গোল্ডেন এবং ৫০ বার রক্তদান করে প্লাটিনাম ক্লাবের সদস্য হয়েছেন—এমন রক্তদাতাদের হাতে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট ও মেডেল তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘আজ যারা সম্মাননা গ্রহণ করেছেন, আপনারা মানবিক বাংলাদেশ নির্মাণের পথপ্রদর্শক। স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে দেশের রক্তের চাহিদা পূরণে আপনাদের অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আসুন, আমরা সম্মিলিতভাবে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে রক্তের অভাবে কোনো মানুষের জীবন বিপন্ন হবে না এবং দেশের রক্তের চাহিদা স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমেই পূরণ হবে। যারা রক্ত দিয়ে অন্যের জীবন বাঁচাচ্ছেন, স্রষ্টা নিশ্চয়ই তাঁদের উত্তম প্রতিদান দেবেন। আপনাদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও রক্তদানের এই মহৎ ধারা অব্যাহত থাকার কামনা করছি।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিক মোসাদ্দিক। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের পরিচালক এম. রেজাউল হাসান।

অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছায় রক্তদানের অনুভূতির কথা জানান ৫১ বারের প্লাটিনাম রক্তদাতা কাজী হাসান আলী, ২৬ বারের গোল্ডেন রক্তদাতা রেজেকা সুলতানা এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত নিয়মিত রক্তগ্রহীতা মাসুমা হোসেন তন্নী।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি ডোনার পুলের কোয়ান্টাম ল্যাব ২০০০ সাল থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১৮ লাখের বেশি মুমূর্ষু মানুষের জীবন বাঁচাতে রক্ত ও রক্ত উপাদান দিয়ে সহায়তা করতে পেরেছে। এর মধ্যে ৫০ বা তার চেয়ে বেশি বার রক্তদানকারী প্লাটিনাম দাতার সংখ্যা ১৯৬ জন, ২৫ থেকে ৪৯ বার রক্তদানকারী গোল্ডেন ডোনারের সংখ্যা ৩ হাজার ১৩৮ জন, ১০ থেকে ২৪ বার রক্তদানকারী সিলভার ডোনারের সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৩ জন এবং কমপক্ষে ৩ বার রক্তদানকারী লাইফ লং ডোনার রয়েছেন ৫৮ হাজারেরও বেশি।

অনুষ্ঠানে কোয়ান্টাম ল্যাবের পক্ষ থেকে সব স্বেচ্ছা রক্তদাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। পাশাপাশি দেশে রক্তের চাহিদা পুরোপুরি মেটাতে তরুণ স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের মানবিক এ সেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান আয়োজকরা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত