অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনার জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তেল আবিব। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা ও ইসরায়েলবিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপের জেরে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের বিরুদ্ধে ‘চরম মিথ্যাচারের’ অভিযোগ এনে লেবার সরকারকে ইসরায়েলের প্রতি ‘শত্রুতাপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন। তার দাবি, ব্রিটিশ সরকার ‘পদ্ধতিগতভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে’। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলি পণ্য বয়কটের ব্রিটিশ সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন। গিডিয়ন সার বলেন, গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় মিশনেও আর অংশ নিতে পারবে না যুক্তরাজ্য। তিনি বলেন, ব্রিটিশদের এ পদক্ষেপ নৈতিকভাবে বিকৃত। এটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও তার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হস্তক্ষেপ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’ জানিয়েছে, ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় ১২ জন ব্রিটিশ আইনপ্রণেতার ইসরায়েলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে তেল আবিব। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, এই এমপিরা ইহুদিবিরোধী এবং ইসরায়েলবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা এই এমপিরা হলেন জেরোমি করবিন, জারা সুলতানা, ফাহাদ আনসারি, নাজ শাহ, ডায়ান অ্যাবট, হান্নাহ স্পেনসার, কার্লা ডেনিয়ার, সিয়ান বেরি, এলি চাওনস, জন ম্যাকডোনেল, রিচার্ড বারগন ও অ্যাড্রিয়ান রামসে।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক পদক্ষেপটি ইসরায়েলের বসতি নীতির বিরুদ্ধে নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের সর্বশেষ উদাহরণ। ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের কয়েকটির সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা যে বাড়ছে এ পদক্ষেপে সেটিও স্পষ্ট হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান রক্ষার আমাদের প্রচেষ্টায় এটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। চলতি মাসের শেষ দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তারা তাদের উদ্যোগের পক্ষে প্রচার চালাবেন।
এদিকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সব সদস্য রাষ্ট্র এ বিষয়ে একমত বলে জানিয়েছেন ইইউর পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি কায়া কাল্লাস। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কায়া কাল্লাস বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েল সরকারের বসতি সম্প্রসারণ কার্যকর দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।