ফের রণক্ষেত্র হরমুজ

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩০ এএম

প্রায় এক মাস ধরে যুদ্ধ পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের বিষবাষ্প ছড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা নতুন করে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং আঞ্চলিক মিত্ররাও এ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার জবাবে গতকাল বুধবার হরমুজ প্রণালিতে ১০টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের এই অভিজাত বাহিনী জানিয়েছে, হামলার শিকার হওয়া জাহাজগুলোর ২টি যুক্তরাষ্ট্রের ও ৮টি তেলবাহী ট্যাংকার। জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালির একটি ‘নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ’ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করছিল। এর আগে গত মঙ্গলবার পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসী বাহিনীর আগ্রাসন ও বিদ্বেষের’ জবাবে তাদের নৌবাহিনী এসব জাহাজে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, হরমুজ প্রণালি এখনো তাদের ‘শক্তিশালী ও কর্র্তৃত্বপূর্ণ নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার’ অধীনে রয়েছে। পাশাপাশি জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানিয়েছে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, এই ‘শাস্তিমূলক অভিযানে’ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত স্থাপনা, যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থান এবং যুদ্ধবিমানের আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্র। এক সপ্তাহেরও কম সময়ে জর্ডানের এই সেনাঘাঁটিতে ইরানের দ্বিতীয় হামলা ছিল এটি।

ইরানের জাহাজে হামলার প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তেহরান দুই বার যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজকে হামলার জবাবে তেল ট্যাংকারগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ইরান দাবি করে, অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘কাসেম বাসির’ ব্যবহার করে ওয়াশিংটনের একটি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪টি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এ ছাড়া ইরানের উপসাগরীয় উপকূলের কাছে প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল খার্গ দ্বীপের কাছে আরও একটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই ইরানি জাহাজগুলো ‘বহু বিলিয়ন ডলারের একটি গোপন নেটওয়ার্কের অংশ যা আইআরজিসি এবং তাদের আঞ্চলিক সহযোগী গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করে’।

এদিকে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চালকবিহীন সাবমেরিন জব্দ করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী গত মঙ্গলবার এ তথ্য জানায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বলেছে, জব্দ করা ড্রোন সাবমেরিনটি একটি ‘ডাইভ-এলডি’ জলযান। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যান্ডুরিল’ এটি তৈরি করেছে। আকারে বড় এই মনুষ্যবিহীন সাবমেরিন পানির নিচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলাচল করতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয় এ দাবি ইরান যুদ্ধে পানির নিচে ড্রোন কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার বিরল একটি চিত্র তুলে ধরেছে। এক বিবৃতিতে আইআরজিসির নৌ শাখা বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আমরা “সন্ত্রাসী” বাহিনীর সবচেয়ে আধুনিক, বুদ্ধিমান ও চালকবিহীন সাবমেরিনগুলোর একটি ফাঁদে ফেলেছি। এ ডুবোযান সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত।’

১৯ ফুট লম্বা সাবমেরিনটি মাইন শনাক্ত ও অপসারণ, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং কেবল ও পাইপলাইনের মতো পানির নিচের অবকাঠামো পরিদর্শনসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে পারে। ইরানের পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র বলেন, তাদের একটি পানির নিচের ড্রোন এক দিনের বেশি আগে বিকল হয়ে গিয়েছিল। তিনি আরও জানান, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে সহায়তার জন্য ড্রোনটিকে আঞ্চলিক জলসীমা পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিকল হওয়া ড্রোনটি ছিল পুরনো মডেলের। এটি কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করত না এবং এতে কোনো গোপনীয় সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না।’ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল থেকেও তাদের একটি জলযান হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত