এআইয়ের হাতে মানবজাতির অস্তিত্ব হুমকিতে, সতর্কতা গবেষকের

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এত দ্রুত উন্নতি করছে যে আগামী এক দশকের মধ্যে এটি ‘সব মানুষকে মেরে ফেলতে পারে’- এমন সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি বলে মনে করছেন অ্যানথ্রপিকের শীর্ষস্থানীয় এআই নিরাপত্তা গবেষক এভান হুবিঙ্গার। খবর বিবিসির। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হুবিঙ্গার বলেন, বর্তমানে থাকা এআই মডেলগুলোর ঝুঁকি কম। তবে প্রযুক্তিটি খুব দ্রুত উন্নত হচ্ছে। শিগগিরই এআই নিজেই নিজেকে উন্নত করার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে তিনি উদ্বিগ্ন। তখন এটি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

ভবিষ্যতে কীভাবে এআইয়ের কারণে মানুষ নিশ্চিহ্ন হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি হুবিঙ্গার। তবে তার মন্তব্য এআই নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের সর্বশেষ উদাহরণ। এ নিয়ে বিতর্ক এখন শুধু এআই ঝুঁকি তৈরি করবে কি না, তা নিয়ে সীমাবদ্ধ নেই; বরং সেই ঝুঁকি কতটা বড়, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

অ্যানথ্রপিকের সাবেক এআই গবেষক জ্যাকব কক্সনের একটি পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় হুবিঙ্গার এসব মন্তব্য করেন। কক্সন সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক ছেড়েছেন। এর আগে তিনি ওপেনএআইয়ে কাজ করেছেন।

কক্সন লিখেছেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানই দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে না।’ তার মতে, শিগগিরই এমন এআই ব্যবস্থা তৈরি হবে, যা মানুষের চেয়ে বেশি সক্ষম হবে, যেকোনো কিছু হ্যাক করতে পারবে, রাতারাতি বিভিন্ন খাতে বিপ্লব ঘটাতে পারবে এবং বাস্তব ক্ষমতা ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে।

জাতিসংঘকে এআই বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া কম্পিউটার বিজ্ঞানী ডেম ওয়েন্ডি হল বিবিসিকে বলেন, হুবিঙ্গার ও কক্সনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখে তিনি ‘হতবাক’ হয়েছেন।

বিবিসি রেডিও ফোরকে তিনি বলেন, অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই যখন সম্ভাব্য শেয়ারবাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এসব মন্তব্যের কিছু অংশ প্রচার ও বিপণনের কৌশলও হতে পারে।

তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কেউ এমন কথা কেন বলবে?’ এমন মূল্যবোধ যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের থাকে, তাহলে বিনিয়োগকারীদের সেই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ না করার আহ্বান জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হুবিঙ্গারের মন্তব্য ও কক্সনের পদত্যাগের পর যুক্তরাজ্যের সাবেক ট্রেজারি চিফ সেক্রেটারি ড্যারেন জোন্স প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন। এতে এআইয়ের নিরাপদ উন্নয়নের জন্য নতুন একটি বহুজাতিক চুক্তির আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবিসিকে জোন্স বলেন, অতিমানবীয় বুদ্ধিমত্তার বিকাশ নিয়ে কী ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তি প্রয়োজন, তা নির্ধারণে সরকারগুলোর একসঙ্গে কাজ করা উচিত। সরকারগুলো এসব সতর্কবার্তা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এআইয়ের উন্নয়নের গতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যখন সমস্যা দেখা দেওয়ার আগেই তা নিয়ে ভাবার সুযোগ শেষ হয়ে যাবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এদিকে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যানথ্রপিক তাদের সর্বশেষ এআই মডেল যুক্তরাজ্যের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের কাছে পরীক্ষার জন্য দেয়নি। এআইয়ের ঝুঁকি মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা।

অ্যানথ্রপিক তাদের কর্মীদের এসব মন্তব্য কিংবা এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের সঙ্গে সর্বশেষ মডেল নিয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি।

যুক্তরাজ্যের ক্যাবিনেট অফিসও সর্বশেষ মডেলটি এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটকে দেওয়া হয়নি কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করেনি। তবে এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এআই মডেলকে আরও নিরাপদ করতে অ্যানথ্রপিকসহ প্রযুক্তি খাতের অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে তারা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত