ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনার সুযোগ দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য ভারতের অবদানকে আমরা অস্বীকার করি না। তবে এ রকম খুনিদের তারা অবলীলায় শুধু আশ্রয় নয়, তাদের রাজনৈতিক অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেবে এতে আমরা ব্যথিত। গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিল্প খাত রক্ষায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দের আহ্বান জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অস্বীকার করা যায় না। তবে দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে। সীমান্ত হত্যা, তিস্তা ও গঙ্গার পানি বণ্টনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা হবে, লড়াই হবে সমানে সমান। আমরা কারও অধীনতা মেনে নেব না। পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে সরকারকে শক্তিশালী নীতিমালা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট চুক্তির মেয়াদ নবায়নের সময় এলে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে তাদের (ভারত) সঙ্গে যেন মোকাবিলা করা হয়। এখানে আলোচনা হবে, লড়াই হবে সমানে সমান।’ দেশে কোনো বৈষম্য দেখতে চান না মন্তব্য করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে মেধা, দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে যোগ্য ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করতে হবে।
সংসদ সদস্যদের উপজেলা পরিষদে বসার জন্য জায়গা করে দেওয়ার বিষয়েও নিজের ভিন্ন মতের কথা জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের কোনো স্থাপনায় সংসদ সদস্যদের বসানো উচিত নয়। বরং তাদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা করা যেতে পারে। চাকরির নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর পরিবর্তন প্রসঙ্গ তিনি বলেন, তরুণ সমাজ এর প্রতিবাদ করেছে এবং তারাও এর প্রতিবাদ করেন, যা চলে আসছে সেটাই বহাল রাখি। শিল্প খাতের সংকট তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উৎপাদন ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রোডাকশন যদি ক্রমহারে এইভাবে নিচের দিকে নামতে থাকলে সব ক্ষেত্রে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসবে।’ শিল্প খাত রক্ষায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে অন্য খাত থেকে কাটছাঁট করে হলেও শিল্পকে রক্ষা করতে হবে। কারণ শিল্প ধ্বংস হলে এর সঙ্গে কোটি কোটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, গণভোটে সংস্কারের পক্ষে জনগণের রায় পাওয়ার পরও সেটি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।