ফ্লাশিং মিডোজের আকাশজুড়ে এখন কেবলই এক প্রতীক্ষার আলোড়ন। ইউএস ওপেনের নারী এককের ফাইনালে এবার মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্ব টেনিসের সদ্য অতীত বনে যাওয়া ও বর্তমানের রানী, আরিনা সাবালেঙ্কা এবং ইলেয়েনা রিবাকিনা। সেমিফাইনালে কোকো গফকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে কাজাখস্তানকন্যা রিবাকিনা যেমন ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছেন, তেমনই জেসিকা পেগুলাকে কোর্টে পাত্তাই না দিয়ে নিজের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এক ধাপ এগিয়ে গেছেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সাবালেঙ্কা।
র্যাংকিংয়ের সিংহাসন বদল আর গ্র্যান্ড স্লামের মর্যাদার এই লড়াই এবারের ইউএস ওপেনকে করে তুলেছে রূপকথার চেয়েও রোমাঞ্চকর। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কোর্টে আগুন ঝরিয়েছেন শীর্ষ দুই তারকা। সেমিফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের গফের মুখোমুখি হয়ে ম্যাচের শুরুতেই চাপে পড়েছিলেন রিবাকিনা। প্রথম সেট হেরে যাওয়ার পর গ্যালারির প্রচণ্ড চাপের মুখে দাঁড়িয়ে নিজের ভেতরের জেদটুকু খুঁজে নিতে হয়েছিল তাকে।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমকে রিবাকিনা নিজের সেই কঠিন মুহূর্ত ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শুনিয়ে বলেন, ‘আমি একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়েছি এবং নিজেকে ইতিবাচক কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে আমার কেবল লড়াই করা উচিত এবং ভালো টেনিস উপহার দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।’ সেই মানসিক দৃঢ়তাই তাকে ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘ ৯৯ সপ্তাহ ধরে বিশ্ব র্যাংকিংয়ের মুকুট পরে থাকা সাবালেঙ্কা জানতেন যে ফাইনালে ওঠার আগেই রিবাকিনার কাছে শীর্ষস্থান হারাতে হচ্ছে তাকে। তবে সিংহাসন হারানোর এই বেদনাকে তিনি পেছনে ফেলেছেন সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সাথে। পেগুলার বিপক্ষে অনবদ্য জয়ের পর সংবাদমাধ্যমকে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে সাবালেঙ্কা বলেন, ‘আমি ফাইনালে ওঠার জন্য দারুণভাবে মরিয়া ছিলাম এবং অবশ্যই আমি শেষ পর্যন্ত ট্রফিটি জিততে চাই।’
র্যাঙ্কিং হারানোর বিষয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটি অনেক পরিশ্রমের ফল এবং হ্যাঁ, এটি আমার অন্যতম একটি লক্ষ্য ছিল, তবে এই মুহূর্তে আমার বিশেষ কিছু করার নেই। এলেনা দুর্দান্ত খেলেছে এবং সে এক নম্বর পজিশনটি নিজের করে নিয়েছে।’
তবে সব মিলিয়ে আগামীকালের এই ফাইনাল কেবল একটি ট্রফির লড়াই নয়; এটি দুই ঘরানার তারকা সম্মান এবং আধিপত্যের লড়াই। সোমবার নতুন র্যাংকিং প্রকাশের আগেই বিশ্বসেরার খেতাব নিশ্চিত করে ফেলা রিবাকিনার সামনে সুযোগ রয়েছে সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্বে সিলমোহর দেওয়ার।
আর অন্যদিকে, টানা তৃতীয়বারের মতো ইউএস ওপেন জেতার হাতছানি নিয়ে কোর্টে নামবেন সাবালেঙ্কা, যিনি চলতি মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ড স্লামে নিজের সেরা ফর্মটাই খুঁজে পেয়েছেন। টেনিসপ্রেমীরা এখন কেবল একটি ঐতিহাসিক ফাইনালের সাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায়।
২০২৭ সালেও কি আর্জেন্টিনার ডাগআউটে দেখা যাবে স্কালোনিকে?