‘আমার লক্ষ্য একটি ট্রফি জেতা’

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৭ এএম

জাতীয় দলের ক্যাম্পে ছিলেন, অনুশীলন করেছেন নতুন কোচ টমাস ডুলির অধীনে। তবে শেষ পর্যন্ত আসিয়ান কাপের দল থেকে বাদ পড়তে হয়েছে কাজেম শাহকে। হতাশা থাকলেও কোচের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান এই ফুটবলার। নতুন মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসে যোগ দিয়ে নিজেকে আরও প্রমাণ করার লক্ষ্য তার। জাতীয় দলে ফেরার পাশাপাশি বাংলাদেশের ফুটবলে নিজের প্রথম শিরোপা জেতার স্বপ্নও দেখছেন কাজেম।

জাতীয় দলের ক্যাম্পে ছিলেন। কোচের প্রক্রিয়ায় বাদ পড়ে এখন বিশ্রামে আছেন। ক্যাম্পের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

কাজেম শাহ কিরমানি : ক্যাম্পটা অনেকটা প্রাক-মৌসুমের মতো ছিল। দিনে দুই বেলা অনুশীলন হয়েছে, কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। এখন ক্যাম্পে নেই বলে অবশ্যই কিছুটা হতাশ। তবে একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে কোচের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। আমি তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করি এবং এখন সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

হাভিয়ের কাবরেরার অধীনে খেলেছেন, এবার টমাস ডুলির অধীনেও অনুশীলন করেছেন। দুজনের মধ্যে কী পার্থক্য দেখেছেন?

কাজেম : দুজনেরই আলাদা ফুটবল-দর্শন ও কৌশল রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাই না। কারণ প্রত্যেক কোচের নিজস্ব পরিকল্পনা ও কৌশল থাকে। ব্যক্তি হিসেবে দুজনই ভালো মানুষ এবং দুজনের সঙ্গেই আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। হয়তো সবসময় তাদের পরিকল্পনায় খেলার সুযোগ পাইনি, কিন্তু মানুষ হিসেবে আমি তাদের দুজনকেই সম্মান করি।

আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ কেমন করতে পারে বলে মনে করেন?

কাজেম : আমি মনে করি বাংলাদেশ ভালো করতে পারবে। আমাদের ভালো একটি দল আছে। নতুন কিছু ভালো খেলোয়াড় যোগ হয়েছে, স্থানীয় খেলোয়াড়রাও ভালো করছে। সবাইকে ভালোভাবে একীভূত করতে পারলে দল আরও শক্তিশালী হবে। দুই বেলা অনুশীলনের মাধ্যমে ফিটনেসও উন্নত হচ্ছে। প্রতিপক্ষ অবশ্যই শক্তিশালী। তবে আমাদের এক ম্যাচ করে এগোতে হবে। প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ভালো ফল পেলে আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং দল ভালো কিছু করতে পারবে।

কোচ আপনার কোন জায়গাগুলোতে উন্নতি চান?

কাজেম : কোচের সঙ্গে এ নিয়ে কথা হয়েছে। কোন জায়গায় আমার উন্নতি করা দরকার, তিনি সেটা বলেছেন। আমি তার মতামতকে সম্মান করি। প্রত্যেক কোচেরই নিজস্ব মতামত থাকে। এখন সেসব বিষয় নিয়ে কাজ করতে চাই এবং নিজেকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করব।

সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ঘরের মাঠে জাতীয় দলে ফেরার লক্ষ্য আছে?

কাজেম : অবশ্যই। জাতীয় দলে খেলা আমার স্বপ্ন। এখন সবকিছু হয়তো আমার ইচ্ছামতো হচ্ছে না, কিন্তু আমি কখনো হাল ছাড়ব না। আবার নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। কোচ যে বিষয়গুলোতে উন্নতি করতে বলেছেন, সেগুলো নিয়ে কাজ করব। আশা করি সাফের সময় আবার জাতীয় দলে থাকতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

আবাহনী ছেড়ে বসুন্ধরা কিংসে যোগ দিয়েছেন। নতুন ক্লাব নিয়ে প্রত্যাশা কী?

কাজেম : সবাই জানে বসুন্ধরা কিংস বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ক্লাব। তাদের সুযোগ-সুবিধা ও পেশাদার পরিবেশ অনেক ভালো। একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এমন ক্লাবেই খেলতে চান, যেখানে নিজেকে শীর্ষ পর্যায়ে নেওয়ার সব সুযোগ থাকে। বসুন্ধরায় সেই সুযোগ আছে। তাই নতুন মৌসুমে তাদের হয়ে খেলতে আমি খুবই রোমাঞ্চিত।

কিংসে দেশি খেলোয়াড়দের গেম টাইম নিয়ে যে আলোচনা, সেটা নিয়ে কোনো শঙ্কা আছে?

কাজেম : না, এটা নিয়ে আমি চিন্তিত নই। বাংলাদেশে আসার পর কোনো ক্লাবই আমাকে গেম টাইমের নিশ্চয়তা দেয়নি। পুলিশে থাকাকালে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আমি একাদশে জায়গা করে নিয়েছি। আবাহনীতেও কেউ কিছু প্রতিশ্রুতি দেয়নি। মাঠে পারফর্ম করেই নিজের জায়গা তৈরি করেছি। বসুন্ধরাতেও একইভাবে নিজের জায়গা করে নিতে চাই।

চার মৌসুম ধরে খেলছেন বাংলাদেশের ঘরোয়া আসরে। কিন্তু এখনো কোনো শিরোপা জেতা হয়নি। এবার কি শিরোপার প্রত্যাশা বাড়ছে?

কাজেম : অবশ্যই। বসুন্ধরা চ্যাম্পিয়ন দল। আমারও বাংলাদেশে একটি শিরোপা জেতার স্বপ্ন আছে। আবাহনীর হয়ে গত মৌসুমে দ্বিতীয় হয়েছিলাম, তাই শিরোপা জেতা হয়নি। এবার আমার লক্ষ্য একটি ট্রফি জেতা এবং একই সঙ্গে খেলোয়াড় হিসেবে আরও উন্নতি করা।

বসুন্ধরার সুযোগ-সুবিধা কেমন?

কাজেম : অন্য ক্লাবগুলোর তুলনায় বসুন্ধরার সুযোগ-সুবিধা অনেক আলাদা। জিম, অনুশীলন মাঠসহ একজন খেলোয়াড়ের প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুই আছে। এই সুবিধাগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে চাই। এগুলো কাজে লাগিয়ে নিজেকে আরও উন্নত করাই আমার লক্ষ্য।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত