অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জেতায় এই সংস্করণে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আছে বাংলাদেশ দল। সামনে সাদা পোশাকের বনেদি সংস্করণে বেশ ব্যস্ত সূচি লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। অক্টোবর থেকে পরের দেড় মাসে ৫টি টেস্ট খেলবেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। এই ব্যস্ততা শুরু হচ্ছে আফগানিস্তানকে দিয়ে। তাদের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টটি মাঠে গড়াবে আগামী ৯ অক্টোবর। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোন ভেন্যুতে ম্যাচটি আয়োজিত হবে, সেটি এখনো প্রকাশ করেনি আফগান ক্রিকেট বোর্ড। এই ম্যাচের পর একটি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ দল। এর বাইরে এশিয়ান গেমস ও ত্রিদেশীয় সিরিজ ছাড়াও চলতি বছর সংক্ষিপ্ত সংস্করণে আরও ৬টি ম্যাচের সূচি আছে লিটন দাসদের। ক্রিকেটীয় ক্যালেন্ডারের এমন ঠাসা সূচি থাকলেও আফগানিস্তানকে নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একমাত্র টেস্টে পূর্ণশক্তির দলই পাঠাতে চান সফরকারীরা।
জানা গেছে, এই টেস্টের জন্য আগামী মঙ্গলবার ১৫ সদস্যের দল দেবেন নির্বাচকরা। ইতিমধ্যে দল নির্বাচনের কাজ অনেকটাই এগিয়ে ফেলেছেন তারা। সেখানে রাখা হচ্ছে না নাহিদ রানাকে। ডানহাতি এ গতি তারকা গ্রেড-২ সাইড স্ট্রেইনের চোটে ভুগছেন। বর্তমানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন তিনি। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের আগেই সেরে উঠবেন নাহিদ। তবে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের ভাবনায় তাকে এই টেস্টের দলে রাখছে না নির্বাচক প্যানেল। ফিরতে পারেন এর পরের ত্রিদেশীয় সিরিজে।
দল নির্বাচনের সঙ্গে টিম ম্যানেজমেন্টের একজন সদস্য নিজের নাম প্রকাশ করতে না চেয়ে বলেন, ‘টেস্ট দলের নিয়মিত সদস্য যারা আছেন, তারা সবাই থাকবেন। শক্ত দলই করা হচ্ছে। অন্তত ব্যাটিং বিভাগে কোনো পরিবর্তন আসছে না। ওয়ার্কলোডের ভাবনায় হয়তো বোলারদের একটু এদিক-সেদিক করা হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত তিন সংস্করণেই খেলেন, তাদের ক্ষেত্রে।’
আফগানিস্তানের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত মাত্র ২টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ দল। দুটোই ঘরের মাঠে। সর্বশেষ ম্যাচে ২০২৩ সালে মিরপুরে তাদের ৫৪৬ রানের বড় ব্যবধানে হারালেও ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে ২২৪ রানে হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। যদিও আগামী ৯ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়। তবে ৬ বছর আগের সেই স্বাদ আর পেতে চায় না বাংলাদেশ। তার ওপর সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সফরের একমাত্র টেস্টে ভরাডুবি হওয়ার নজিরও খুব বেশি পুরনো নয়। এ জন্য টেস্টের কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে দেখতে চাচ্ছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। এ জন্য মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হকদের নিয়েই পরিকল্পনা সাজাচ্ছে বাংলাদেশ।
এই টেস্ট শেষে আয়োজক আফগানদের সঙ্গে জিম্বাবুয়েকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবেন তাওহীদ হৃদয়, মোস্তাফিজুররা। ১৭ অক্টোবর শুরু হবে এ লড়াই। সেদিন জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল। বাংলাদেশ ফাইনালে উঠলে তার আগেই দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে ঢাকায় পা রাখবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। এ সিরিজটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে শান্ত, লিটনের রাখা হবে কি না, সেটি নিয়ে ভাবছেন নির্বাচকরা।