৫-৭ দিনের মধ্যে গ্যাস পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে: প্রধানমন্ত্রী

গ্যাস সরবরাহ সংকট কাটাতে ১৩০টি কূপ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১০ এএম

গ্যাসসংকট নিয়ে আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মন্দিরে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বর্তমান পরিস্থিতি, গ্যাস সরবরাহ সংকটের কারণ এবং তা মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি

তারেক রহমান বলেন, দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি নিয়ে সমস্যা রয়েছে এবং সরকার কখনো তা অস্বীকার করছে না। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও জ্বালানি সংকটে পড়েছে।

তিনি বলেন, সরকার গঠনের ১২ দিন পরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হয়। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। শুরুতে মানুষের ওপর বাড়তি চাপ এড়াতে সরকার তেলের দাম না বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু কিছু অসাধু মানুষ তেল এমনভাবে ব্যবহার শুরু করে, যার বিরূপ প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। পরে বাধ্য হয়ে তেলের দাম বাড়ানো হয়।

দেশে উৎপাদিত গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং দীর্ঘদিন নতুন গ্যাসকূপ খনন না হওয়ায় বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, আমদানি করা গ্যাস গ্রহণের জন্য সমুদ্রে দুটি বড় জাহাজ রয়েছে। প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগে এর একটি জাহাজে আগুন লাগে। তবে আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা, তদন্তের পরই তা বলা যাবে বলে জানান তিনি।

গ্যাসসংকটের মধ্যে একটি অসাধু চক্র পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস টেনে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারেক রহমান। তাঁর ভাষ্য, কিছু ব্যক্তি বিদেশ থেকে আনা বা নিজেদের তৈরি যন্ত্র ব্যবহার করে পাইপলাইন থেকে জোর করে গ্যাস নিচ্ছেন। এতে একজন লাভবান হলেও আশপাশের অনেক মানুষ গ্যাসসংকটে পড়ছেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়ম হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাজ করছে হয়তো পাঁচজন, কিন্তু কষ্ট পাচ্ছে ১০০ জন।

দেশের গ্যাসসম্পদ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মাটির নিচে গ্যাস থাকার কথা বলা হলেও প্রকৃত অবস্থা এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। এ বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সংসদেও আলোচনা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে দেশের জ্বালানি খাতকে ব্যাপকভাবে বিদেশ-নির্ভর করে তোলা হয়েছিল। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাপেক্সকে সক্রিয় করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

গ্যাস অনুসন্ধানের অনিশ্চয়তা বোঝাতে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের উদাহরণ দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, কোনো জায়গায় খনন করলেই যেমন সবসময় পানি পাওয়া যায় না, তেমনি কূপ খনন করলেই গ্যাস পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। পাশাপাশি গ্যাসকূপ খনন অত্যন্ত ব্যয়বহুল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ১৩০টি গ্যাসকূপ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কূপের অনেকগুলোতেই গ্যাস পাওয়া যাবে বলে সরকার আশাবাদী। গ্যাস পাওয়া গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও জানান তিনি।

অবৈধভাবে গ্যাস টানা বন্ধে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকেও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, দেশ সবার এবং দেশের প্রতি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে।কেউ অবৈধভাবে গ্যাস বা বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরি হতে দেখলে তার প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর দেশের প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান।

বক্তব্যের শুরুতে ঢাকা-১৭ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের পর এলাকার মানুষকে যতটা সময় দেওয়া প্রয়োজন ছিল, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কারণে তিনি তা দিতে পারেননি। এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সুবিধা-অসুবিধা যতটা সম্ভব রাষ্ট্রীয় অবস্থান থেকে নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প ঢাকা-১৭ থেকেই শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর কাজ শেষ হতে আরও এক থেকে দেড় মাস সময় লাগতে পারে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত