তিন দিন পর মেঘনায় মিলল বিজিবি সদস্যের মরদেহ

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩১ এএম

মেঘনার তীরে জিওব্যাগ ধসে একসঙ্গে নিখোঁজ হয়েছিলেন দুই বন্ধু। দুই দিন পর লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মিলেছিল রাকিব আহমেদের মরদেহ। আর তিন দিন পর গতকাল শনিবার ভোলার দৌলতখানে মেঘনা নদীর মিজানের চরে ভেসে উঠে বিজিবি সদস্য মো. আমজাদ হোসেনের মরদেহ। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ভাসমান অবস্থায় আমজাদের (২৮) মরদেহ দেখতে পান জেলে ও স্থানীয়রা। দুই তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার দুটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মির্জাকালু নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সনাতন চন্দ্র সরকার বলেন, খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নিহত আমজাদ হোসেন ভোলা পৌরসভার ভদ্রপাড়া এলাকার মো. ইব্রাহীমের ছেলে। তিনি বিজিবিতে কর্মরত ছিলেন এবং বান্দরবানের রুমা উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রায় দুই মাস আগে ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর তার কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। দুই বছর আগে মোসাম্মৎ মারিয়াকে বিয়ে করেন আমজাদ। আমজাদের নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর থেকে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। ছেলের সন্ধান না পেয়ে মা-বাবাও ভেঙে পড়েছিলেন। আমজাদের শ্যালক মো. রাজু জানান, ভগ্নিপতি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তার বোন মারিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম।

গত বুধবার সন্ধ্যায় ভোলা সদরের শিবপুর ইউনিয়নের গরীবের দুবাইখ্যাত বালুর মাঠ এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে জিওব্যাগের ওপর বসে পাঁচ বন্ধু আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ নদীর তীরের একটি বড় অংশ জিওব্যাগসহ ধসে পড়লে পাঁচজনই খরস্রোতা মেঘনায় পড়ে যান। তিনজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও আমজাদ ও তার খালাতো ভাই রাকিব আহমেদ নিখোঁজ হন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত