দুই বছর পর তিতাস নদীতে নৌকাবাইচ

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৬ এএম

ভাদ্রের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে তিতাসপাড়ে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ উপভোগ করেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর বুকে আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং লাখো দর্শকের করতালি ও আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে টানা দুই বছর বন্ধ থাকার পর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় তিতাসের শিমরাইলকান্দি গাঁওগেরাম পয়েন্টে বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। এ সময় তিনি বলেন, নৌকাবাইচ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যেরই অংশ। মানুষ চায় প্রতি বছর নৌকাবাইচ হোক। আমরা আশা করি আগামী বছর থেকে নিয়মিতভাবে এটি আয়োজন করতে পারব।

উদ্বোধনের পর রঙ-বেরঙের বাহারি পোশাক পরিহিত প্রতিযোগী নৌকাবাইচের মাঝি দল তাদের সুসজ্জিত নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এ সময় বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে মাঝিদের ভাটিয়ালি গান আর পানিতে বৈঠার ছলাত ছলাত শব্দে পুরো এলাকা মুখরিত হয়। দুপাড়ের দর্শনার্থীরাও স্বতঃস্ফূর্ত আবেগে সুর মেলান মাঝিদের সঙ্গে- ‘মারো টান, হেইয়ারে হেইয়াহো।’

আয়োজকরা জানান, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে গত দুই বছর এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এবারের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা চলাকালে তিতাসের ঢেউ আর দর্শকদের উচ্ছ্বাস যেন একাকার হয়ে ওঠে।

জেলা সদর, নবীনগরসহ বিভিন্ন স্থানের ৯টি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রত্যেকটি ধাপ থেকে একটি করে বিজয়ীসহ চারটি নৌকা চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে জেলা সদরের শাপলা ভয়েস ক্লাব ২ লাখ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে জেলা সদরের দারমা গ্রামের নৌকা দেড় লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে জেলার নবীনগরের পুইল যুব সংঘ ১ লাখ টাকা জয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক দলকে নগদ ৩০ হাজার টাকা ও ট্রফি প্রদান করা হয়।

উৎসবমুখর পরিবেশে নৌকাবাইচ উপভোগ করতে তিতাসের দুই তীরে জড়ো হন প্রায় অর্ধলক্ষাধিক দর্শনার্থী। তারা তীরবর্তী ভবনের ছাদ, বিভিন্ন ঘাট এবং নৌযানের ওপর বসে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত