যত্রতত্র পার্কিং ও ফুটপাত দখলে ভোগান্তি চরমে

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৪ পিএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারের সিইউএফএল ও টানেল সংযোগ সড়কের দু’পাশে ফুটপাত দখল করে চলছে বেচাকেনা। সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্ট্যান্ড, আবার যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং। এতে প্রতিদিনই ছোট-বড় যানবাহন আটকে থাকছে দীর্ঘ লাইনে। কিন্তু কেউ বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে না। দখলদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দেখেও না দেখার ভান করছে।

এছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশা নিজেদের মতো করে রাস্তা দখল করে রাখছে। ফলে উপজেলার প্রাণকেন্দ্র চাতরী চৌমুহনী বাজারজুড়ে যান চলাচলের সুযোগ নেই। পথচারীরাও ফুটপাত ব্যবহার করতে পারছে না, পড়ছে চরম ভোগান্তিতে।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের ব্যস্ততম এ বাজারের ওয়ান মাবিয়া সেন্টার, আমিন সেন্টার, কাঁচা বাজারের সামনেসহ প্রতিটি পয়েন্টের মূল সড়কে দোকান বসিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর পাশেই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে অটোরিকশা। যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থা থাকলেও সড়কে চলাচলের মতো জায়গা নেই। অন্যদিকে ফুটপাতের প্রায় পুরোটা দখল করে নিয়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সড়ক ও ফুটপাত দখল বাণিজ্যের কারণে চলাচলকারী মানুষকে পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে। দিনের বেলায় অবাধে সড়কে গাড়ি পার্কিং, লোড-আনলোডের কাজও চলছে। পায়ে হাঁটার জন্য নির্মিত ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে শিশু, শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে, তেমনি সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাতরী চৌমুহনী বাজারের ওপর দিয়ে আনোয়ারা ছাড়াও চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও কক্সবাজারের পেকুয়া ও চকরিয়ার যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া কর্ণফুলী টানেল ব্যবহারকারী যানবাহন ও কেইপিজেডের শ্রমিকবাহী যানবাহনও চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে।

চালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, চাতরী চৌমুহনী বাজার থেকে মেরিন একাডেমি পর্যন্ত ৭  কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক সম্প্রসারিত হওয়ার পর এর ওপর বসে পড়েন দোকানিরা। যার কারণে প্রতিদিন যানজটের সৃষ্টি হয়। তার ওপর বাজারের নিয়মিত যানজটের কারণে প্রতিদিনই অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া সড়কের ওপর অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড হওয়ায় সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। আর এ কারণে চারপাশ থেকে আসা যানবাহন আটকে পড়ে।

ব্যবসায়ী এরশাদ সিকদার বলেন, অনেক দোকানদার তাদের কাঁচা বাজারের স্থায়ী দোকান রেখে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। এদিকে কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি। এছাড়াও সড়কের এক অংশ দখলে রেখেছে অটোরিকশা স্ট্যান্ড। এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন তিনি।

কেইপিজেডের নারী পোশাক শ্রমিক জেসমিন আকতার বলেন, গাড়ি থেকে নেমে আর বাজারে যেতে হয় না। বাজারই চলে এসেছে সড়কের দুইপাশে। যানজটের আটকার মধ্যেই গাড়ি থেকে বাজার সেরে নিতে পারি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বেতনের টাকা তুলতে পায়ে হেঁটে বুথে যাওয়ার অবস্থাও এখন চাতরীতে নেই। দুই মিনিটের পথ লেগেছে ২৫ মিনিট। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দোকানি জানান, টাকা দিয়ে তারা ব্যবসা করছেন। প্রতিদিনই বাজার ইজারাদারকে হাসিলের টাকা দেন। কেউ কেউ আবার যে মার্কেট বা দোকানের সামনের ফুটপাত দখল করেছেন, তাদের প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দিচ্ছেন।

তবে বাজারের ইজারাদার জাগির আহমদ বলেন, সড়কে দোকান বসাতে বলা হয়নি। বারবার সরাতে বলা হলেও তারা শোনে না।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন বলেন, আনোয়ারার গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মধ্যে চাতরী চৌমুহনী বাজারটি অন্যতম। এখানে প্রতিমাসেই যানজট নিরসনের লক্ষ্যে সড়ক ও ফুটপাতে বসানো অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়। এরপরও ফুটপাত দখল আর সড়কের যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং থামছে না। শিগগিরই অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত