রাউজানের করিম হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রসহ ৪ আসামি গ্রেপ্তার 

হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন দাবি পুলিশের।

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম

চট্টগ্রামের রাউজানে আলোচিত মোহাম্মদ করিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় এলজি, এয়ার গান, রক্তমাখা চাপাতিসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর ২ রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় মোহাম্মদ করিমকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। সিএনজি অটোরিকশাযোগে আসা একদল সন্ত্রাসী করিমকে ঘিরে ধরে গুলি করে এবং পরবর্তীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

নিহত মোহাম্মদ করিম রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তবে তিনি হাটহাজারী উপজেলার আমান বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক, ডাকাতি, ছিনতাইসহ ১০টি মামলা রয়েছে।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০দিন আগে জনৈক পারভেজের মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। পারভেজ ওই চুরির ঘটনায় করিমকে সন্দেহ করে মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দেয়। করিম মোটরসাইকেলটি চুরি করেনি বলে জানালে পারভেজ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

পরবর্তীতে ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে পারভেজ তার নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে কৌশলে করিমকে রাউজানের কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে নিয়ে আসে। সেখানে পারভেজসহ অন্যান্য আসামি পরস্পর যোগসাজশে করিমকে প্রথমে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

ঘটনার তদন্তে নেমে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ  প্রত্যক্ষদর্শী, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য সংগ্রহ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে। 

এরপর নগরের চান্দগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭) ও মো. জাবেদকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে আজ সোমবার ভোরে করিম হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও কার্তুজ রাউজান পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকা থেকে পলাতক আসামি পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর খামার থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর  হাটহাজারী থানাধীন দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে মো. সেলিম (৫০) ও মো. আলামিনকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়।

উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে আছে, একটি লোহার তৈরি দেশীয় এলজি, একটি দেশীয় তৈরি এয়ার গান, ২ রাউন্ড ১২ বোরের সীসা কার্তুজ, একটি চাপাতি ও একটি লোহার গ্রিল কাটার উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, করিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া সব আসামির বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নে। তাদের এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে রাউজান থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে।

পলাতক আসামি পারভেজসহ অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পলাতক আসামি পারভেজের বিরুদ্ধে রাউজান থানাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, নারী ও শিশু নির্যাতন, বিস্ফোরক এবং অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত