দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে মো. রুবেল ইসলাম ওরফে রুবেল রানা (২৫) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে ঠাকুরগাঁওয়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত রুবেল রানা ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানার খড়িবাড়ী (বদ্বেশ্বরী) গ্রামের মো. নান্দু ইসলামের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর বিকেলে রুহিয়ার ঢোলারহাট বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী মাসির বাড়ি যাওয়া
র জন্য ঢোলারহাট বাজারসংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে অটোচার্জার স্ট্যান্ডে পৌঁছালে রুবেল তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ও ভুল বুঝিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। স্থানীয়দের চাপের মুখে পরদিন রুবেল মেয়েটিকে অটোতে তুলে ফেরত পাঠালে ভুক্তভোগীর পরিবার রুহিয়া থানায় মামলা দায়ের করে।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় (অপহরণ) ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড (অনাদায়ে ১ বছর কারাদণ্ড) এবং ৯(১) ধারায় (ধর্ষণ) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড (অনাদায়ে ১ বছর কারাদণ্ড) প্রদান করেন। উভয় সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।
রায়ের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আসামির ওপর ধার্যকৃত অর্থদণ্ড ভিকটিমের ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষতিপূরণ আদায়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আবু নাঈম।
গার্মেন্টস কর্মকর্তা হত্যা: নারায়ণগঞ্জে ৭ জনের যাবজ্জীবন
নারায়ণগঞ্জে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন