১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

সিএমপির ২ সহকারী উপপরিদর্শক ক্লোজড, এসি প্রত্যাহার

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪০ পিএম

চট্টগ্রামে এক ব্যবসায়ী ও তার বন্ধুকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে জুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ ১৮ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দুই সহকারী উপপরিদর্শককে সাময়িকভাবে ক্লোজড করা হয়েছে। একই ঘটনায় পুলিশের এক সহকারী কমিশনারকে (এসি) প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ক্লোজড হওয়া দুই সহকারী উপপরিদর্শক হলেন—সিএমপির ল’ফুল ইন্টারসেপ্টেড সেলের (এলআইসি) বাছির উদ্দিন এবং রেশন স্টোরের আবু সুফিয়ান। অন্যজন হলেন এলআইসির সহকারী কমিশনার শরিফুল আলম সুজন।

বিষয়টি সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করে নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, ‘এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সিএমপি সূত্র জানায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে এসি শরিফুল আলমের নেতৃত্বে সাদা পোশাকধারী একদল পুলিশ হালিশহর কে ব্লকের বাসা থেকে ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান শাকিল (২৭) ও তার বন্ধু মনসুর আলীকে তুলে নেন। তাদের একটি টয়োটা করোলা গাড়িসহ সিএমপির এলআইসি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করে ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি অন্য একটি ডিভাইসে স্থানান্তর করা হয়।

শাকিল অভিযোগ করে জানান, তার ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস করে দেওয়ার এবং তাদের জুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন এসি শরীফ ও এএসআই বাছির। শরিফুল ও তার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা শাকিলকে তার বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট থেকে তিন দফায় ১০ হাজার ৮৬৪ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা) নানা মাধ্যমে স্থানান্তর করতে বাধ্য করেন।

শাকিল আরও অভিযোগ করেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে তিন কনস্টেবল তাকে সিএমপির কাছে একটি ব্যাংকের বুথে নিয়ে যান এবং পাঁচ দফায় ৪ লাখ টাকা তুলতে বাধ্য করেন। এ ছাড়া এলআইসি কার্যালয়ে থাকা অবস্থায় একটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের অ্যাকাউন্ট থেকেও ৮০ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয়।

দুই ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা একটি সাদা কাগজে তাদের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখে সেখানে তাদের সই নেন। এরপর তাদের ভিডিও ধারণও করা হয়। পরে রাত ১২টার দিকে তাদের ছেড়ে দেন। পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের প্রাইভেট কার ফিরিয়ে দিয়ে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত